মধ্যরাত থেকে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ 

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা

১৯ মে ২০২২, ০৭:৫৯ পিএম


মধ্যরাত থেকে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ 

মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে শুক্রবার (২০ মে) মধ্যরাত থেকে ৬৫ দিনের জন্য দেশের সমুদ্রসীমায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। ইতোমধ্যে জাল-ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরছেন বরগুনার জেলেরা।

৬৫ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বরগুনার ২৭ হাজার ২৭৭ জন জেলেকে ১ হাজার ৫২৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেওয়া হবে। এসময় যাতে অসাধু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমুদ্রে যেতে না পারে সেজন্য কঠোর অবস্থানে থাকবে জেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে সদর উপজেলার নলী বন্দর ও পাথরঘাটা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া অধিকাংশ ট্রলার তীরে ফিরেছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রলার রাতের আগেই তীরে ফিরবে। পাথরঘাটার সমুদ্রে যাওয়া শত শত মাছ ধরার ট্রলার মৎস অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে নোঙর করা রয়েছে। জেলেরা জাল ও মাছ সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ট্রলার মেরামত ও রঙ করানোর জন্য ডকইয়ার্ডে নিয়ে যাচ্ছেন।

মৎসজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকশ ট্রলার ইতোমধ্যে তীরে ফিরে নোঙর করেছে। কিছু ট্রলার বাকি আছে, সেগুলোও সন্ধ্যার আগের ফিরবে। বরগুনা উপকূলের দেড় লাখ মানুষ জেলে পেশায় নিয়োজিত। দুঃখের বিষয় হচ্ছে সরকারি তালিকায় জেলে সংখ্যা ৩৭ হাজার ৭৪ জন। বাকি এক লাখেরও বেশি জেলে সহায়তা পান না।

স্থানীয় জেলেরা জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের এমন নির্দেশনা মেনে চলবেন তারা। তবে এই দুই মাসেরও বেশি সময় সাগরে না যাওয়ায় আর্থিক অনটনে ভুগবেন। চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুম থাকায় আজ মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদী মোহনায় মাছ ধরার উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২৩ জুলাই। এই সসময়ে দেশের সামুদ্রিক জলসীমানায় সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। এ সময়ে সাগরে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আর্থিক সঙ্কটে পড়বে জেলেরা। জেলার ২৭ হাজার ২৭৭ জন জেলের জন্য ১ হাজার ৫৭৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতি জন জেলে ৬৫ দিনে ৮৬ কেজি চাল পাবেন। এসব চাল জুনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সদরের ও অন্যান্য উপজেলার জেলেদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে। 

প্রসঙ্গত, দেশের সমুদ্র সীমায় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষে সরকার ২০১৯ সাল থেকে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে ২০১৫ সাল থেকে কেবল বড় ট্রলারগুলোর জন্যই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। 

খান নাঈম/এমএএস

Link copied