ইউপি সদস্যের ঘরে মিলল চুরি যাওয়া মালামাল

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী 

২৯ জুন ২০২২, ১২:৪৯ পিএম


ইউপি সদস্যের ঘরে মিলল চুরি যাওয়া মালামাল

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক ইউপি সদস্যের ঘর থেকে চুরি হওয়া ১০ বস্তা সয়াবিন-বাদাম-মুগডাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাত ৯টায় উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের আতব আলী বাজারের পাশে সেলিম মেম্বারের বাড়ি থেকে বস্তাগুলো উদ্ধার করা হয়। 

জানা যায়, ২৬ জুন (রোববার) স্থানীয় হারিছ চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্লাহর দোকান থেকে ২৬ বস্তা সয়াবিন-বাদাম-মুগডাল চুরি হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্লাহ চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চরজুবলি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিমের ঘর থেকে চুরি হওয়া সয়াবিন-বাদাম-মুগডালের বস্তাগুলো উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সেলিম দীর্ঘ দিন ধরে সে ঘরে বসবাস করেন না। এটি পরিত্যক্ত এবং সেখানে তার ভাগনে পারভেজ বসবাস করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবী, ইউপি সদস্য সেলিমের যোগসাজশে এগুলো চুরি করা হয় এবং তা সেখানে রাখা হয়। এর আগেও তিনি একাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তরমুজের যৌথ ব্যবসা করে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর ৮ লাখ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ চলমান রয়েছে। 

ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাঝেমধ্যে দোকান থেকে ১-২ বস্তা মালামাল খোয়া যেত। এজন্য কাউকে দায়ী করতে পারতাম না। রোববার রাতের কোনো এক সময় গুদামের দরজা ভেঙে ১০ বস্তা সয়াবিন, ৫ বস্তা মুগডাল, ৫ বস্তা বাদাম, ৬ বস্তা খেসারির ডাল নিয়ে যায়। আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।

জানতে চাইলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুরোনো বাড়িতে আমার যাওয়া আসা তেমন হয় না। আমার ভাগনে পারভেজ ওই বাড়িতে থাকে। পারিবারিক কারণে আমি দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ভাড়া বাসায় থাকি। আমার ভাগনে বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সে এর আগেও চুরির মামলায় ৩ মাস জেলে ছিল। 

তিনি আরও বলেন, আমি দুইবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি। সততার সঙ্গে ইউপি সদস্যের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। একটি কুচক্রী মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অযথা আমার নামে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত চোরকে ধরে শাস্তি দিলেই মূল ঘটনা বের হবে। আমি চাই তদন্তপূর্বক প্রকৃত দোষীর শাস্তি হোক।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেব প্রিয় দাশ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী কেফায়েত উল্লাহর লিখিত অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে মালামালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসিব আল আমিন/এসপি

Link copied