বাল্যবিবাহ করতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার খাদ্য কর্মকর্তা

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

১০ আগস্ট ২০২২, ১০:৪০ পিএম


বাল্যবিবাহ করতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার খাদ্য কর্মকর্তা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাল্যবিবাহ করতে আসার অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ (৫৪)। পরে জনতার রোষানল থেকে তাকে উদ্ধার করেন রৌমারী সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, প্রথম স্ত্রীর ভুয়া অনুমতি সনদ ও কিশোরীকে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করতে আসায় ওই কর্মকর্তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে।

ইসকে আব্দুলাহ দিনাজপুর সদরের সুইহারী (খালপাড়া) গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এখনো।

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউনূছ আলী জানান, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শৌলমারী এমআর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ। এর সুবাদে কেন্দ্রেই পরিচয় হয় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে। পরে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নেন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে কল দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে তিন সদস্যের বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তিনি উপস্থিত হন ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে। এ সময় প্রথম স্ত্রীর ভুয়া অনুমতিপত্র আনেন সঙ্গে। তার সঙ্গে আসা দুই খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান)  বিয়েতে সাক্ষী হতে রাজি হননি।

পরে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের বয়স না হওয়ায় তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গণধোলাই দেয়। পরে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন রৌমারী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু।

সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু বলেন, ওই কর্মকর্তা বিয়ে করতে এসে জনতার রোষানলের শিকার হয়েছেন। পরে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তার স্ত্রী কামরুন আরার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে জানান, তাদের ঘরে দুই কন্যাসন্তান ও এক ছেলেসন্তান রয়েছে। এক মেয়ের বিয়েও দেওয়া হয়েছে। আরেক মেয়ে পড়াশোনা করছে এবং ছেলেসন্তান দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে।

তিনি আরও জানান, তার স্বামী কিছুদিন ধরে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেন এবং বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। এ নিয়ে দিনাজপুর থানায় যৌতুক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ গতকাল রাতে বলেন, আমার পারিবারিক সমস্যার কারণে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসেছে। মেয়ের বয়স কম, এটা আমার জানা ছিল না। বুধবার (১০ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন বলেও জানান তিনি।

বরযাত্রী হিসেবে আসা কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, তিনি (ইসকে আবদুল্লাহ) তার এক আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াতের কথা বলে আমাদের রৌমারীতে নিয়ে আসেন। পরে দেখি তিনি বিয়ে করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। এ সময় আমাদের দুজনকে বিয়ের সাক্ষী হতে বলেন। আমরা সরকারি কর্মকর্তা, বাল্যবিয়েতে সাক্ষী হতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় রৌমারী সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালুর সহযোগিতায় আমরা রক্ষা পাই।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ বুধবার তিনি ওই স্কুলছাত্রীকে আর বিয়ে করতে পারেননি।

ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, কুড়িগ্রাম সদরে ৩০ শতক জমিতে বাড়ি করে দেবে, ১০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আমার শিশু মেয়েকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ওই কর্মকর্তা। তার প্রথম স্ত্রীর ভুয়া অনুমতি সনদসহ দুজন লোক সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে আসে। এ সময় গ্রামবাসীর এসব নিয়ে সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর হাতাহাতি হয়।

ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, রাণীশংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা দুদিনের ছুটিতে রয়েছেন। এ ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

মো. জুয়েল রানা/এনএ

Link copied