গার্ডারচাপায় নিহত রুবেলের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, মেহেরপুর 

১৬ আগস্ট ২০২২, ০৬:২৯ পিএম


গার্ডারচাপায় নিহত রুবেলের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা

কদিন আগেও বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন আইয়ুব আলী হোসেন রুবেল (৫৫)। কথা ছিল ছেলে ও পূত্রবধূকে নিয়ে বেড়াতে আসবেন। কিন্তু সেই কথা রাখতে পারলেন না। রুবেল আসছেন ঠিকই তবে লাশ হয়ে।

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডারচাপায় নিহত হয়েছেন আইয়ুব আলী হোসেন রুবেল। গতকাল সোমবার (১৫ আগস্ট) ছেলে হৃদয় আলীর বউভাত শেষে প্রাইভেট কারে করে ছেলে ও ছেলের বউকে পৌঁছে দেওয়ার পথে গার্ডারচাপা পড়েন। এ সময় বর-বধূ প্রাণে বেঁচে গেলেও রুবেলসহ মারা যান পাঁচজন।  

রুবেলের গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। গ্রামের অনেকেই রুবেলকে নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ বা রুবেলের স্মৃতি রোমন্থন করছেন। সকলেই রুবেলের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন। রুবেলের বড় বোন আদুরি খাতুন ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই মূর্ছা যাচ্ছেন। কথা বলতে পারছেন না। গলা বসে গেছে তার। তবুও ভাঙ্গা কণ্ঠে দুই হাত ও মাথা নাড়িয়ে আহাজারি করছেন।

আদুরি খাতুন বলেন, আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। আমার একটি মাত্র মেয়ে তাও বিয়ে হয়ে গেছে। আমার সংসারে রোজগার করার কেউ না থাকায় ভাই প্রতিমাসে সাত হাজার টাকা পাঠাতো। ওই টাকায় আমার সংসার চলতো। এখন আমার কী হবে?

dhakapost

একইভাবে আহাজারি করছিলেন তার মেয়ে নাসিমা খাতুন। তিনি বলেন, মামা প্রতি ঈদেই বাড়ি আসতেন। আমাদের জন্য অনেক বাজার করে আনতেন। গ্রামের বাড়িতে এসে আমার মামা গ্রামের সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতেন।

 রুবেলের বড় ভাই মহাশিন আলী বলেন, আমরা সাত ভাই, দুই বোন। রুবেল ৮ নম্বর। অনেক আগেই আমাদের বাবা এবং মা মারা গেছেন। আমি আমার ছোট ভাইদের মানুষ করেছি। বয়সের ভারে আমি তেমন আর চোখ দেখি না। ১০দিন আগেও রুবেল আমার কাছে বসে অনেক গল্প করে গেল। আমার ভাই মারা গেছে এখনো ভাবতে পারছি না। 

তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই ইয়াহিয়া গেছে লাশ আনতে। বার বার তাকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিচ্ছি তাদের উপস্থিতি কোথায়? মনকে ধরে রাখতে পারছি না। ইয়াহিয়া মোবাইল ফোনে জানিয়েছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কখন মেহেরপুরে পৌছাব তা জানি না।

শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, গ্রামের মানুষও রুবেলের নানা স্মৃতিচারণ করে আফসোস করছে। রুবেলের মরদেহের অপেক্ষায় আছেন স্বজনরা। 

নিহতের স্বজনরা জানান, ২২ বছর আগে গার্মেন্টেসে চাকরির জন্য গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে যান রুবেল। সেখানে দীর্ঘদিন চাকরির পর বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা শুরু করেন। গেল ১০/১২ দিন আগেও তিনি গ্রামে এসেছিলেন। কথা ছিল ছেলের বিয়ের পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসবেন। কিন্তু সেটা হলো না।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরার জসীমউদ্‌দীন রোডের মোড়ে বিপণিবিতান আড়ংয়ের সামনে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কংক্রিটের বিশাল গার্ডার ক্রেন দিয়ে তোলার সময় চলন্ত একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে যায়। গাড়িটিতে মোট ৭ জন ছিলেন। এদের মধ্যে পাঁচজন নিহত হন। বেঁচে যাওয়া দুজন হলেন নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১)। হৃদয়-রিয়া মনির বউভাতের অনুষ্ঠান শেষ করে ফিরছিলেন সবাই।  

আকতারুজ্জামাান/আরএআর

টাইমলাইন

Link copied