হিলিতে লোকসানের শঙ্কায় খালাস করা হচ্ছে না ভারতীয় চাল 

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর

১৬ আগস্ট ২০২২, ০৬:৫১ পিএম


হিলিতে লোকসানের শঙ্কায় খালাস করা হচ্ছে না ভারতীয় চাল 

দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে ভারত থেকে চাল আমদানি। আমদানি বাড়লেও লোকসানের শঙ্কায় বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। সরকার দ্রুত শুল্ক কমিয়ে আমদানিকৃত চাল বাজারজাত করার সুযোগ করে দেবে এমন প্রত্যাশা আমদানিকারকদের।

হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধের পর দেশের বাজার স্বাভাবিক রাখতে গত ২৩ জুলাই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় ভারত থেকে চাল আমদানি। আমদানি শুরু হলেও ডলার সংকট ও ভারতে চালের দাম বাড়ায় ধীরগতিতে চলে চালের আমদানি। তবে সম্প্রতি এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বেড়েছে চাল আমদানি। শুরুর দিকে ৫ থেকে ৬টি করে চালবোঝাই ট্রাক এই বন্দরে প্রবেশ করলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ ট্রাকে। তবে আমদানি বাড়লেও ব্যাংক গুলোতে এলসির মার্জিন শতভাগ করায় লোকসানের আশঙ্কায় বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। যার ফলে বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় এখনো পড়ে রয়েছে ১০০টি ভারতীয় চালবোঝাই ট্রাক। ব্যাংকের মার্জিন রেট ও শুল্ক কমানো গেলে কিছুটা লোকসান কাটিয়ে আমদানিকৃত চালগুলো বাজারজাত করা যাবে বলে জানান আমদানিকারকরা।

চাল আমদানিকারক শাহিনুর রেজা শাহিন বলেন, আমরা ভারত থেকে চাল আমদানিতে যে দর নিয়ে এলসি খুলেছিলাম এখন চাল অনেক বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে আমাদের লোকসানের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকের মার্জিন শতভাগ এবং ডলারের মূল্যও বেড়েছে। এজন্য বন্দরে আমদানি করা চালগুলো খালাস করতে পারছি না। চাল খালাস করলে লোকসানে পড়ে যাব আমরা। সরকার দ্রুত শুল্ক কমিয়ে আমদানিকৃত চাল বাজারজাত করার সুযোগ করে দেবে এমন প্রত্যাশা করছি আমরা আমদানিকারকরা।

চাল ব্যবসায়ী মোজাহার হোসেন বলেন ,ভারত থেকে আমদানি করা চালে কেজি প্রতি শুল্ক দিতে হচ্ছে প্রায় ৫৮ টাকা আর দেশে চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। দেশে চালের দাম কমানোর জন্যই ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টো হচ্ছে। আগে এলসির চাল খালাসে ব্যাংকের মার্জিন শতভাগ ছিল না। চাল খালাসের পর ব্যাংককে পরিশোধ করা হতো, কিন্তু এখন আগেই শতভাগ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারে ডলার সংকটের কারণে দেশে এর প্রভাব পড়ছে।

হিলি পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক বলেন, হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানি হওয়া চালবোঝাই শতাধিক ট্রাক খালাসের অপেক্ষায় আটকে আছে। খালাসের জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। আমদানিকৃত চাল দ্রুত খালাসে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে হিলি পানামা পোর্ট কর্তপক্ষ।

হিলি কাস্টমসের তথ্য মতে, গত ২৩ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১৯২টি ভারতীয় ট্রাকে ৭ হাজার ৭১৫ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে। যা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার মতো। আর বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ১০০টি চালবোঝাই ট্রাক।

ইমরান আলী সোহাগ/আরএআর

Link copied