হতাশা কাটিয়ে সোনালি আঁশে কৃষকের মুখে হাসি

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর

১৭ আগস্ট ২০২২, ১০:১২ এএম


অডিও শুনুন

দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম ও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। প্রথম দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে পাট জাগ দিতে সমস্যা হলেও মৌসুমের শেষ দিকে এসে বৃষ্টি হওয়ায় খুশি চাষিরা।

সরেজমিনে দিনাজপুরের খানসামা, চিরিরবন্দর, সদর, বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের অন্যতম কৃষিনির্ভর জেলা দিনাজপুর। এ বছর বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও পাটের আবাদ কৃষকদের জন্য আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। পাট নিয়ে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ খেত থেকে পাট কাটছেন, কেউবা পাট পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ আঁশ ছাড়িয়ে, পানিতে ধুয়ে, শুকিয়ে বাজারে নিচ্ছেন বিক্রির জন্য।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বর্ষাকালে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও আবাদী এলাকা বন্যামুক্ত থাকায় এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট চাষের জন্য উপকার হয়েছে। এছাড়া আধুনিক জাতের উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ফলে জেলায় ক্রমান্বয়ে পাটের উৎপাদন বাড়ছে। 

Dhaka post

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর পাট আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২০ হেক্টর বেশি। এ বছর পাটের উৎপাদনও বেড়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে পাটের গড় উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ১১ মেট্রিক টন। আর এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১২ মেট্রিক টন।

জেলা পাট অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলার বিভিন্ন বাজারে পাট প্রকারভেদে ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে পাটের বাজার দর ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা।

জেলার খানসামা উপজেলার কৃষক মতিয়ার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। সব মিলে উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকার মতো। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় দেড় বিঘায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার পাট বিক্রি করব।

Dhaka post

একই এলাকার পাটচাষি হামিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, পাট মূলত বৃষ্টিনির্ভর ফসল। মৌসুমের শুরুতে এবার বৃষ্টি হয়েছে। তখন পাটগাছের বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। পরে সময়মতো বৃষ্টি ও রোদ ভালো হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাট কাটার সময় প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এতে পরিবহন ব্যয়ও সাশ্রয় হয়েছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর গ্রামের পাটচাষি আশরাফ আলী ঢাকা পেস্টকে বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো আবার পাটকাঠি ভালো দামে এবার বিক্রি হচ্ছে। তাই কৃষকরা এবার পাট চাষে লাভবান হবেন।

একই গ্রামের পাটচাষি নজরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতবারের তুলনায় পাট ভালো দামে বিক্রি করেছি। ভালো মানের পাট বাজারে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গতবারের তুলনায় ৪০০- ৫০০ টাকা বেশি।

Dhaka post

পাট কাটা নারী শ্রমিক মৌসুমি রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, পাটের ফলন ও বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় পাটচাষিরা আমাদের সঠিক মজুরি দিচ্ছেন। 

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) খালেদুর রহমান জানান, এ বছরের আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাছাড়া আধুনিক জাতের উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার এবং পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ পাট চাষে কৃষকদের সব সময় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে দিনাজপুরে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

ইমরান আলী সোহাগ/এসপি

Link copied