মির্জা ফখরুলের বাবা রাজাকার ও শান্তি বাহিনীর প্রধান ছিলেন

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৫৬ পিএম


মির্জা ফখরুলের বাবা রাজাকার ও শান্তি বাহিনীর প্রধান ছিলেন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এখন নির্বাচনে যেতে ভয় পায়। তাই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করে আসছে। 

তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এখন মিউজিয়ামে চলে গেছে। সেই ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না। বিএনপি আজকে নিরপেক্ষ সরকার চায়, একসময় তারাই বলেছিল নিরপেক্ষ মানেই পাগল আর শিশু। নির্বাচনে আসুন, জগা খিচুড়ির ঐক্য করে লাভ নেই। গতবার যে পরিণতি হয়েছিল এবারও সেই পরিণতিই আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বাষির্ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। 

মোছলেহ উদ্দিন ভুঞা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত সমাবেশের উদ্বোধন করেন আ. লীগের সভাপতি মণ্ডলির সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি। 

সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত দুই দিন আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ এলাকায় একটি বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন পাকিস্তান আমলেই নাকি বাংলাদেশটা ভালো ছিল। মূলত, ওনার বাবা একজন রাজাকার এবং শান্তি বাহিনীর প্রধান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর জীবন বাঁচাতে তিনি ছয় মাস ভারতে পালিয়ে ছিলেন। চিন্তা করে দেখুন, কত বড় রাজাকার এবং পাকবাহিনীর দালাল ছিলেন।

তিনি বলেন, ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে চাই, আপনি কি আশ্বিন ও কার্তিক মাসে নীলফামারী-লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম এই সব চর এলাকায় গিয়েছেন, মানুষের কষ্ট দেখেছেন? প্রতি বছর আশ্বিন ও কার্তিক মাসে এসব এলাকায় মঙ্গা হতো। শত শত লোক না খেয়ে মারা যেত। সেই সময় পত্র পত্রিকায় নিউজ হয়েছে। আমি ছোটকাল থেকে আমার গ্রামে দুর্ভিক্ষ দেখেছি। মানুষের কষ্ট দেখেছি। কোনো মানুষের ঘরে খাবার থাকত না। ছনের ঘর দিয়ে পানি পড়ত। সেই বাংলাদেশে আজ ছনের ঘর নেই। সব বাড়িতে বিদ্যুৎ, ভাত রান্নার চুলা আছে। বাংলাদেশে ঘরে ঘরে টেলিভিশন ও ফ্রিজ আছে। আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পাকিস্তানের সময় নাকি তারা ভালো ছিলেন!

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলাম এমপি তার বক্তৃতায় বলেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। আমাদের আজ শপথ নিতে হবে। সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই অপশক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে হটাতে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বস্তি ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাইলে বিএনপির মতো অপশক্তিকে রাজনীতি থেকে অবশ্যই বিতাড়িত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে পাকিস্তানের আইএসআই-এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের এই দলটির জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তাই এই দলটির নেতাদের মনে এখনো পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা ভর করে রয়েছে। যার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এসব কথা শোনা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, কার্য নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এমপি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি, নরসিংদী সদরের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হীরু বীর প্রতিক, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জি এম তালেব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৪ জন সভাপতি ও ১৮ জন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী হন। পরে জিএম তালেব হোসেকে সভাপতি এবং পীরজাদা মোহাম্মদ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী তিন বছরের জন্য নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এমএএস

Link copied