‘১০ রুকুইম্না কাম না কইরলে আঁংগো হেডে ভাত ঢুকে না’

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৩১ এএম


‘১০ রুকুইম্না কাম না কইরলে আঁংগো হেডে ভাত ঢুকে না’

‘বেক কামই আঁংগো হারন লাগে। ১০ রুকুইম্না (রকম) কাম না কইরলে আঁংগো হেডে ভাত ঢুকে না। লতি টোগাই বা কিননের হর কুডিকাডি বেছন হারন লাইগবো আঁংগো। নাইলে কেউ আঁংগোরে ভাত দিতো ন। ক্ষেতের হাগ টোগাইও কুডিকাডি আঁই বেইচছি। আঁংগো বেডিরাও ১০ রুকুইম্না কাম না হাইরলে ভাত হায় না।’

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চকবাজার এলাকায় সড়কের পাশে ভ্যানে সবজি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন এসব কথা বলেন। কচুর লতি কুটে-বেছে বিক্রি করেন তিনি। সবজি কুটে বিক্রি করতে লক্ষ্মীপুরে কোথাও দেখা যায়নি। ইব্রাহিমের দাবি সবজি বিক্রিতে তিনি নতুনত্ব আনয়নের চেষ্টা করছেন।

ইব্রাহিম সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের জনতাবাজার এলাকার মৃত সুলতান আহম্মদের ছেলে। তার সংসারে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। 

নীল রঙের শার্ট পরা ইব্রাহিমের ভ্যানে অল্প কিছু সবজি দেখা যায়। সবগুলোই কীটনাশক বিহীন নিরাপদ সবজি। এর মধ্যে কচুর লতি, শাপলা, কাঁচকলা, কলার মোচা ও বোম্বাই মরিচ দেখা যায়। লতি ও শাপলাগুলো তিনি দিনব্যাপী নিজ এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছেন। যা পুরোটাই প্রাকৃতিক। কারও চাষ করা নয়। আর কাঁচকলা, কলার মোচা ও বোম্বাই মরিচ তার নিজ বাড়ির সবজি। 

জামাল উদ্দিন নামে এক চাকরিজীবী বলেন, প্রতিটি সবজির দাম নাগালের বাইরে। এভাবে চলা খুবই কষ্টকর।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, লতি আমার অনেক প্রিয় খাবার। ইলিশ দিয়ে রান্না করলে অসাধারণ লাগে। কিন্তু বাসায় কুটা-বাছার কষ্টে অনেকদিন খাওয়া হয়নি। ভ্যানে কুটা লতি দেখে এক কেজি নিয়েছি। দাম যাই হোক তৃপ্তি সহকারে ইলিশ দিয়ে লতির তরকারি খাওয়া যাবে। তবে লক্ষ্মীপুরে এ প্রথম কুটা সবজি বিক্রি করতে দেখছি। 

জানতে চাইলে ইব্রাহিম হোসেন বলেন, লতি অনেকের পছন্দের তরকারি। কিন্তু কুটার কষ্টে অনেকেই তা কিনতে চাচ্ছে না। কারণ লতি কুটলে হাত চুলকায়, আঙুলে কালো দাগ হয়ে যায়। এতে কুটা লতির ভালো চাহিদা রয়েছে। আধা কেজি ও এক কেজি করে পলথিনে রাখা হয়েছে। পরিমাণ অনুযায়ী সবাই কিনে নিচ্ছে। প্রতি কেজি লতি ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। লতিগুলো আমার স্ত্রী কুটে দিয়েছেন। 

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মুঠ (১০-১২ লতা) শাপলার মূল্য ৫০-৬০ টাকা, কলাও হালিপ্রতি ৫০ টাকার ওপরে দাম। বাজারে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ১২০-১৩০ টাকা, ওল কচু ৮০ টাকা কেজি। সবমিলিয়ে প্রতিটি সবজির দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

হাসান মাহমুদ শাকিল/আরএআর

Link copied