লিয়নের জন্য কাঁদছে জলনূপুর-কালাপাহাড়

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

০৪ মার্চ ২০২১, ০৮:৫৩ এএম


লিয়নের জন্য কাঁদছে জলনূপুর-কালাপাহাড়

মন ভালো নেই জলনূপুর-কালাপাহাড়ের

২১ বছরের নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে উচ্ছ্বসিত জীবনে ফেরা লিয়ন আর নেই। বন্ধু কালাপাহাড় আর বান্ধবী জলনূপুরকে ছেড়ে ঠাঁই হয়েছে না ফেরার দেশে। অথচ কিছুদিন আগেও ফুরফুরে মেজাজে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে খেলায় মেতে থাকত লিয়ন। দীর্ঘ সময়ের নিঃসঙ্গতা ভুলে কালাপাহাড় আর জলনূপুরের সঙ্গে বেশ ভাব জমিয়েছিল এই জলহস্তী। কিন্তু লিয়নের হঠাৎ মৃত্যুতে মন খারাপ জলনূপুর-কালাপাহাড়ের।

বুধবার (৩ মার্চ) বিকেলে রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে জানা গেল জলহস্তী লিয়ন বেঁচে নেই।  শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশাল দেহের এই জলহস্তীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। ওইদিনই চিড়িয়াখানার পূর্ব দিকে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয় লিয়নকে। এই জলহস্তীর মৃত্যুর বিষয়টি চার দিনেও বাইরে জানাজানি হয়নি। এমনকি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদেরও বিষয়টি জানায়নি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

সেখানকার কেয়ারটেকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃত্যুর আগ মুহূর্তে বান্ধবী জলনূপুরের সঙ্গে খোশগল্প আর খেলায় ব্যস্ত ছিল লিয়ন। সেখানে বন্ধু কালাপাহাড়ও এসে ভাব জমায়। এমন সময় জলে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয় লিয়ন। সেই আঘাতই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঠেলে দেয় লিয়নকে। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

তবে নাম না প্রকাশের শর্তে একজন কেয়ারটেকার বলেন, জলনূপুর আর কালাপাহাড় এই চিড়িয়াখানাতে নতুন এসেছে। আগে দুজনই ঢাকা চিড়িয়াখানায় ছিল। ২১ বছরের বেশি সময় পর নতুন সঙ্গী পেয়েছিল লিয়ন। তাদের মধ্যে বেশ ভালো সখ্যতাও হয়েছিল। কিন্তু সেদিন (২৭ ফেব্রুয়ারি) খেলার সময় কালাপাহাড়ের আঘাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যায় জলহস্তীটি।  

বর্তমানে চিড়িয়াখানার জলহস্তীর খাঁচায় কালাপাহাড় আর জলনূপুর রয়েছেন। তবে লিয়নের মৃত্যুর পর এই দুই জলহস্তীর মনও ভালো নেই। ঠিকমতো খাচ্ছে না। কখনো শুয়ে আবার কখনো একটানা পানিতে ডুবে থেকে লিয়নের শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়া লিয়ন অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু বাধর্ক্যজনিত কারণে শেষ পর্যন্ত মারা যায়। এ ব্যাপারে জানতে সেখানকার অফিসার ডা. এইচ এম শাহাদাৎ শাহিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. আমবার আলী তালুকদার জানান, একেকটা জলহস্তী জাতভেদে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। লিয়নের বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে জলহস্তীটির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে কালাপাহাড় ও জলনূপুর নামে দুটি জলহস্তী চিড়িয়াখানায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানায় কালাপাহাড়ের জন্ম হয়। এতোদিন সেখানেই ছিল। গত বছরের ১৮ আগস্ট কালাপাহাড়কে রংপুরে আনা হয়। বর্তমানে এ জলহস্তীর বয়স ৬ বছর। এর সঙ্গী জলনূপুরকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা থেকে আনা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুর একটি। প্রয়াত জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলেন রংপুর চিড়িয়াখানাটি। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৯২ সালে খুলে দেওয়া হয়। প্রায় ২১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানাটিতে ৩২ প্রজাতির ২১৬টি প্রাণি রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ দুটি, বাঘ একটি, জলহস্তী দুটি, হরিণ ৫৯টি, অজগর সাপ দুটি, ইমু ৩টি, উটপাখি একটি, বানর ৯টি, কেশওয়ারি ৩টি, গাধা ৩টি, ঘোড়া দুটি, ভাল্লুক একটি উল্লেখযোগ্য।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসপি

Link copied