ট্রেনে চেপে সমাবেশস্থলে যোগ দিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৬ পিএম


অডিও শুনুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে পরিবহন ধর্মঘট। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে এই ধর্মঘট পালন করছে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদ। ফলে আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার কোনো যানবাহন এই জেলা থেকে ছেড়ে যায়নি বা প্রবেশ করেনি। তবে বাস বন্ধ থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিকল্প উপায়ে সমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই রাজশাহী যাওয়া শুরু করেছেন।

ছুটির দিন শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শনিবারের গণসমাবেশে যোগ দিতে ট্রেনে করে রাজশাহী যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সদর উপজেলা ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী সকালে বিকল্প যান হিসেবে ট্রেনে রাজশাহী যাচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৮টায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন ছেড়ে যায় কমিউটার মেইল ট্রেনটি। ট্রেনে আসন না পেয়ে দাঁড়িয়েও থাকতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজশাহীর গণসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই দেওয়া হয়েছে এই পরিবহন ধর্মঘট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে রাজশাহীর দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার হলেও সমাবেশের দিন যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই আগেই চলে যাচ্ছেন বলে জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বাস বন্ধের সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়তি ভাড়া এড়াতে অনেকেই ট্রেনে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।

dhakapost

নাচোল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ুম আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, শনিবারের বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ঠেকাতেই আওয়ামী লীগ সরকার এই ধর্মঘট দিয়েছে। বিষয়টি যেহেতু আমরা আগে থেকেই জানি, সেহেতু বিকল্প উপায় হিসেবে আগের দিনই ট্রেনে করে রাজশাহী চলে যাচ্ছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেকোনো মূল্যে আমরা রাজশাহীর গণসমাবেশকে সফল করবো।

নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সাইরুল মড়ল বলেন, নাচোল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনে আসতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশায় এসেছি। বাস বন্ধ থাকায় এখন ট্রেনে করে রাজশাহী যাচ্ছি। কালকে সমাবেশ হলেও আজকেই সমাবেশস্থলে পৌঁছাতেই আগের দিন চলে যাচ্ছি। কারণ আমাদের আশঙ্কা আগামীকাল সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রদল নেতা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ট্রেনে করে আগের দিনই সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে পারলেও রাতে কোথায় থাকব, কি খাব কিছুই জানি না। প্রয়োজনে খিচুড়ি খেয়ে থাকব, গাছতলায় রাত কাটাব। কিন্তু সমাবেশ সফল করবই, ইনশাআল্লাহ। তবে আশা করছি, সমাবেশস্থলে গেলে একটা ব্যবস্থা হবেই।

যুবদলের এক নেতার দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতেও রাজশাহী অভিমুখে বৃহস্পতিবার থেকে রওনা দিয়েছেন অনেক নেতাকর্মী। বিভিন্ন নাশকতা ও বিস্ফোরণের মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি ও আটক করছে পুলিশ। সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে শেষদিনে হয়তো এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার ওবাইদুল ইসলাম বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ও আজকে সকালের ট্রেনে তেমন ভীড় দেখা যায়নি। অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে, যাত্রীর তেমন কোনো বাড়তি চাপ নেই। সকাল সাড়ে ৮টার কমিউটার মেইল ট্রেনে ৪২০ জন যাত্রী যেতে পারে। প্রতিদিনের মতোই আজ পূর্ণ যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত সময়েই ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন ছেড়ে গেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা যেন যেতে না পারে, সেই কারণে সমাবেশের তিনদিন আগেই ধর্মঘট দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে দেশের সর্বশেষ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আগের গণসমাবেশগুলো থেকে আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে রাজশাহীর সমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীদের নানারকম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকেই সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে নেতাকর্মীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির গণসমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদুর রহমান নান্নুর। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে সরকারের সঙ্গে বারবার আলোচনা হলেও কোনো সমাধান না আসায় বাধ্য হয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিতে হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর মহাসড়কে নসিমন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন ও পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ১০ দফা দাবি পূরণে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ১৭টি সংগঠন। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ধর্মঘটে যায় সংগঠনগুলো। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস সব ছেড়ে গেলেও যাত্রীদের নিয়ে আর ফেরেনি। বিকেল থেকেই আন্তঃজেলা চলাচলকারী পরিবহনগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বাস বন্ধ থাকায় বেশি ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছে সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো।

মো. জাহাঙ্গীর আলম/এমজেইউ 

Link copied