ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসা অবহেলায় গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৩২ এএম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসা অবহেলায় গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু

অডিও শুনুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় গর্ভের সন্তানসহ খাদিজা বেগম (৪৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের গ্রিন ভিউ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। 

খাদিজা বেগম সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেয়াই গ্রামের প্রবাসফেরত নয়ন মিয়ার স্ত্রী। তার ৪ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। 

খাদিজার পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে খাদিজার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে  গ্রিন ভিউ হাসপাতালে এনে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জিনিয়া খানের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অক্সিজেন লাগানোর পর জানানো হয় গর্ভের সন্তান নড়াচড়া করবে। কিন্তু সারা রাতেও গর্ভের সন্তান নড়াচড়া করেনি। এমনকি রোববার বেলা ১১টায়ও চিকিৎসক এসে খাদিজকে দেখেননি। পরে পরিবারের লোকজন চাপ সৃষ্টি করলে চিকিৎসক এসে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে খাদিজার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে জানান। 

পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত সন্তানটিকে নরমালি প্রসব করানোর কথা জানান। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মৃত সন্তান নরমালে প্রসব করালে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন- কোনো সমস্যা হবে না। পরে ডা. জিনিয়া খান ও ডা. আবু হামেদ বাবু খাদিজার মৃত সন্তানকে নরমালি প্রসব করানোর জন্য চেষ্টা চালান। কিন্তু তাতে খাদিজার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসককে বার বার সিজার করানোর কথা বলা হলেও শুনেননি। এরপর থেকেই খাদিজার শারীরে খিচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। 

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তবে অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. আবু হামেদ বাবু বলেন, রোগীর বয়স অধিক ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে তার খিচুনি ও রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল। আমরা রোগীকে বাঁচানোর জন্য সব ধরণের চেষ্টা করেছি। 

বাহাদুর আলম/আরএআর

Link copied