এবার চিরিরবন্দরে লোহার খনির সন্ধান

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর

২৪ মার্চ ২০২১, ১০:২২ এএম


এবার চিরিরবন্দরে লোহার খনির সন্ধান

চিচিরবন্দরে লোহার খনির সন্ধান

দিনাজপুরের হাকিমপুরে লোহার খনি আবিষ্কারের পর এবার বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি) চিরিরবন্দরে নতুন একটি লোহার খনির সন্ধান পেয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে। 

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন খনিতে লোহার কাঁচামাল আকরের পুরুত্ব অনেক বেশি। তাই লোহার সঙ্গে তামাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশাও করছেন তারা। উপজেলার ১০ নম্বর পুনট্রি ইউনিয়নের কেশবপুর মৌজায় এই খনির অবস্থান চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর।

সরেজমিনে চিরিরবন্দর উপজেলার কেশবপুর এলাকায় দেখা যায়, বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর খনির অবস্থান চিহ্নিত করে সেই স্থানটি সংরক্ষিত হিসেবে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ করেছে। খনিতে ব্যবহারের জন্য  সেখানে আনা হয়েছে বেশ কিছু লোহার পাইপ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে বেশ কয়েকটি কূপ খনন করা হয়েছে। এক পাশে টিনের চালা তৈরি করা হয়েছে।

Dhaka Post
মাটি খননের কাজ চলছে

খনির পাশে কথা হয় তৈয়ব আলী নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, লোহার খনির কথা শুনেছি, কখনো দেখিনি। মোর বাড়ির কাছেই খনি বারাওচে। সকালে আসি মুই খালি দেখো (দেখি)। আল্লাহ যেন এই খনির শেষ দেখে মোক নিয়ে যায়। 

স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো.আরিফ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, লোহার খনি আবিষ্কার হলে এই এলাকার বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এলাকার মানুষের উন্নতি হবে। যুব সমাজের কর্মসংস্থান হলে তারা অন্যায় কাজে মন দেবে না।

খনির কূপ খনন কাজে দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন উপপরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মো. মাসুদ রানা। সহযোগী হিসেবে রয়েছেন উপপরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মো. নিহাজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মো. নাজমুল হোসেন খান, সহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মঞ্জুর আহমেদ এলাহী এবং সহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মো. রোকনুজ্জামান। 

এ ব্যাপারে ১০ নম্বর পুনট্রি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুর এ কামাল বলেন, বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মো. আবদুল আজিজ পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসককে দেওয়া একটি চিঠির অনুলিপি পেয়েছি। চিঠিতে কেশবপুর এলাকায় জিডিএইচ-৭৬/২১ কূপ খনন করার সময় কর্মকর্তাদের সহায়তা, নিরাপত্তা, তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহ, যাতায়াত, পথ প্রদর্শন প্রভৃতি বিষয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে ঢাকা পোস্টকে জানান, নতুন খনিতে লোহার কাঁচামাল আকরের পুরুত্ব অনেক বেশি। তাই লোহার সঙ্গে তামাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশাও করছেন তারা। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হচ্ছে কেশবপুরে। 

তিনি বলেন,‘সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে কূপ খনন কাজ উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. শের আলী এই কূপ খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এর আগে তারা কিছুই বলতে চান না। 

উপজেলার ১০ নম্বর পুনট্রি ইউনিয়নের কেশবপুর মৌজায় এই খনির সম্ভাবতা যাচাই কাজ চলছে। খুব দ্রুত বিষয়টি নিয়ে খোলাসা করা হবে। এর বেশি এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। 

মোছা.আয়েশা সিদ্দিকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চিরিরবন্দর

দিনাজপুর জেলা প্রসাশক খালেদ মোহাম্মদ জাকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মো. আবদুল আজিজ পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পেয়েছি। তারা লোহার খনির সন্ধানে সকল প্রকার সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ করছেন। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হবে।

মাহাবুর রহমান/এসপি

Link copied