গাড়ির কাগজ চাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে মারধর, দুজন রিমান্ডে

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট

১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:১৯

গাড়ির কাগজ চাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে মারধর, দুজন রিমান্ডে

পুলিশের ওপর হামলায় গ্রেফতারকৃতরা

লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে জয়পুরহাটে কয়েকজন যুবকের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন তিন ট্রাফিক পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের বিআইডিসি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শহরের বিআইডিসি মোড়ে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলযোগে ওই এলাকায় গেলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের থামিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চায়। তখন যুবকরা জানান কাগজপত্র নেই এবং তারা কাউকে কাগজ দেখান না। এই বলে চলে যেতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের গাড়ি আটকের চেষ্টা করে। 

তখন তাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশকে মারধর শুরু করেন যুবকরা। পরে আরও কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলযোগে এসে ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই জাহিদ, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য তাজুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই আবুল কাশেম বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তারা হলেন শহরের বুলুপাড়া এলাকার ফকির মাহমুদের ছেলে সান্টু মন্ডল (২৮), সাহেবপাড়া এলাকার মোসলেমের ছেলে রাজিব পান্না চঞ্চল (২৭), রূপনগর এলাকার সোলাইমানের ছেলে সাগর (৩৬), সাহেবপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহাগ ইসলাম (৩৩), শুভ ইসলাম (৩২) ও গুলশান মোড় এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে আশিকুর ইসলাম (৩৬)।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। 

পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পুলিশ কারও প্রতিপক্ষ নয়। সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে জনগণকে সচেতন করাই পুলিশের দায়িত্ব। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছেন তারা আইনশৃঙ্খলা অমান্য করেছেন। ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যারা সক্রিয়ভাবে জড়িত তাদের দুজনকে আদালত দুইদিনের রিমান্ড দিয়েছেন। আরও যারা জড়িত আছেন তাদের গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

চম্পক কুমার/এএম/জেএস

Link copied