নিজের গাড়িটি রোগীদের জন্য দিলেন জেলা পরিষদ সদস্য

Dhaka Post Desk

মো. নাহিদ রেজা, ঠাকুরগাঁও

২১ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৫৪ পিএম


নিজের গাড়িটি রোগীদের জন্য দিলেন জেলা পরিষদ সদস্য

নিজের গাড়িটি রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন জেলা পরিষদ সদস্য

দিন দিন বেড়েই চলছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বেড়েছে লকডাউনের সময়সীমা। সড়কে নেই গণপরিবহন। ভোগান্তিতে রয়েছেন রোগী ও সাধারণ মানুষ।

এ অবস্থায় চার ইউনিয়নের রোগীদের সেবায় নিজের প্রাইভেটকার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের সদস্য রওশনুল হক তুষার। তিনি বড়গাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে লকডাউনে এ সেবা চালু করেছেন তিনি। তার গাড়িতে রোগীদের ফ্রিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারঘোষিত লকডাউনের প্রথম দিন থেকে রওশনুল হক তুষার নিজের প্রাইভেটকার এলাকার অসহায় রোগীদের সেবার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এর সুবিধা পাচ্ছেন চার ইউনিয়নের মানুষ। তার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে গাড়ির মাধ্যমে প্রায় ১৫ জন অসহায় মানুষ সেবা পেয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাইভেটকারের ওপর অ্যাম্বুলেন্সের বাতি লাগিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার বালিয়া, বড়গাঁও, দেবীপুর ও আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন ওমর ফারুক। ফোন এলেই গাড়ি নিয়ে দ্রুত ছুটে যান ওমর ফারুক। তিনি তুষারের গাড়িচালক।

বড়গাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত শুক্রবার রাতে ঝড়ের সময় হঠাৎ করে আমার পুত্রবধূর পেটব্যথা ওঠে। কোনো গাড়ি ছিল না রাস্তায়। কীভাবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাব, চিন্তায় ছিলাম। উপায় না পেয়ে তুষার ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে গাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে তাকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ধন্যবাদ জানাই তুষার ভাইকে। তিনি এলাকাবাসীর জন্য সুন্দর একটি উদ্যোগ নিয়েছেন।

dhakapost
ফোন এলেই গাড়ি নিয়ে রোগীদের বাড়িতে ছুটে যান ওমর ফারুক

আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রহিমুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, কিছুদিন আগে আমার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। হাতে টাকা ছিল না। কীভাবে হাসপাতালে নেব বিপদে পড়ে গেছিলাম। পরে বাসার পাশের এক ভাই বললেন, তুষার ভাই নিজের গাড়ি দিয়ে ফ্রি সার্ভিস দেন। পরে তাকে ফোন দিই। একটু পরই গাড়ি বাসার সামনে হাজির। অনেক উপকার হলো আমার।

জেলা পরিষদের সদস্য রওশনুল হক তুষার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার অনেক অসহায় রোগী সঠিক সময়ে হাসপাতালে যেতে পারছেন না। এজন্য আমার প্রাইভেটকার উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আমি আমার গাড়িচালককে বলেছি, ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দিয়ে যাও। তোমাদের বেতন বাড়িয়ে দেব। এই সার্ভিস অব্যাহত থাকবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য তুষার সাহেব লকডাউনে মানুষের কথা চিন্তা করে ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

নাহিদ রেজা/এএম

Link copied