বিজ্ঞাপন

যে হাটে প্রয়োজনীয় সবকিছুই মেলে বিনামূল্যে

করোনা মহামারির কারণে চলছে লকডাউন। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ না থাকায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে এসব মানুষ। সেই সকল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সংগঠনটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠারোবাড়ী-নান্দাইল সড়কের পাশে অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চালু করেছে সাপ্তাহিক ফ্রি হাট। স্থানীয়রা এমন কর্মযজ্ঞকে ‘মানবিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শুরু হয়েছে পহেলা রমজানে। প্রতি হাটে দুই শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসে এ হাট। 

Dhaka Post

প্রথম সপ্তাহের ফ্রি-হাটের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। আর দ্বিতীয় সপ্তাহের ফ্রি হাটের উদ্বোধন করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন, তৃতীয়টির উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার সাধন কুমার মজুমদার। রমজানের শেষ সপ্তাহে হাটটি বসবে বুধবার (৫ মে)।   

ফ্রি হাটে কঠোরভাবে মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। প্রবেশ পথেই বসানো হয়েছে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার। তিন ফুট দূরত্বে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন পণ্যের স্টল। যেখানে থরে থরে সাজানো রয়েছে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাটকা সবজি। রয়েছে লাউ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, মাছ, পেঁয়াজ, আলুসহ ইফতার সামগ্রী।

Dhaka Post

এমন মানবিক কর্মসূচির সমন্বয়ক আজহারুল ইসলাম পলাশ বলেন, করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের কথা ভেবে এমন আয়োজন করা হয়েছে। আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বিষমুক্ত শাক-সবজি সংগ্রহ করি। এ ছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের যারা ফ্রি হাটে এসে প্রয়োজনীয় পণ্য নিতে সংকোচবোধ করেন তাদের গোপনে এসব পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অর্থের যোগান কোথা থেকে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতায় চলছে ফ্রি হাট। 

জেলা প্রশাসক এনামুল হক বলেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি মানবিক উদ্যোগ। এই ক্রান্তিলগ্নে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করা উত্তম নেয়ামত। এ কর্মসূচি চালিয়ে নিতে প্রশাসন তাদের পাশে আছে।

উবায়দুল হক/এসপি 

বিজ্ঞাপন