বিজ্ঞাপন

মুহুরী নদীর ভাঙনে প্লাবিত দশ গ্রাম, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ফেনীতে ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের চারটি স্থান ভেঙে জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। গতকাল সোমবার (১ জুলাই) রাত থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩টি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুরসহ পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

dhakapost

এছাড়া পরশুরাম উপজেলার দক্ষিণ শালধর এলাকার জহির চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন বাঁধের একটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে দক্ষিণ শালধর, মালিপাথর, নিলক্ষ্মী, ঘোষাইপুর এবং পাগলিরকুল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ফুলগাজী বাজারের ব্যবসায়ী আলী আহম্মদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে বন্যা হলেও বাজারে এতো পানি কখনও হয়নি। গতকাল রাতে বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে প্রায় তিন ফুটের বেশি পানিতে বাজার প্লাবিত হয়েছে। রাতে স্বাভাবিকভাবে দোকান বন্ধ করে বাড়ি গেলেও সকালে এসে অনেক সামগ্রী পানির নিচে পেয়েছি।

স্বপ্না আক্তার নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, মাত্র একবছর আগে টেইলার্স দোকান দিয়েছিলাম। আজকে বন্যার পানি প্রবেশ করে দোকানে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

dhakapost

উত্তর দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা রাশেদা বেগম বলেন, বাঁধ ভেঙে ঘরে কোমর পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। রান্না করা খাবারও খেতে পারিনি। এখন পাশের আরেকটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। প্রতিবছরই এমন বন্যায় আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। এবার আর কোনও ত্রাণ নয়, একটি স্থায়ী বাঁধ চাই আমরা। 

পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাতে দক্ষিণ শালধর জহির চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধে ভাঙনের শুরু হয়। লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতবছরও এ ভাঙন স্থানের পাশে বাঁধের আরেকটি অংশে ভাঙনের দেখা দিয়েছিল। টেকসই বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়।

dhakapost

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সকালের দিকে ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিন বাংলা দ্বিতীয় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

জেলা প্রশাসক বলেন, মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আজকের পরীক্ষা স্থগিতের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা ৩টি বোর্ডকে (সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ও ভোকেশনাল) চিঠির মাধ্যমে অবগত করি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এবার ফুলগাজীতে ৪টি ও পরশুরামে ২টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছিল। নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানির ডুকছে। নদীর পানি কমলে ভাঙন এলাকা মেরামত করা হবে।

dhakapost

এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ভূঁইয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩টি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এবার উপজেলায় ৪টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, বন্যাদুর্গতদের মাঝে ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তারেক চৌধুরী/পিএইচ

বিজ্ঞাপন