বাল্যবিয়ে দেওয়ায় সহকারী কাজির জেল

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

০৪ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:২৪ পিএম


বাল্যবিয়ে দেওয়ায় সহকারী কাজির জেল

দণ্ডপ্রাপ্ত হুমায়ন কবির

রাজশাহীর বাঘায় বাল্যবিয়ে পড়ানোর দায়ে হুমায়ন কবির নামের এক সহকারী কাজিকে (নিকাহ রেজিস্ট্রার) কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকালে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে রোববার (৩ জানুয়ারি) রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামাল হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

বাঘা উপজেলার এটি একেবারেই প্রত্যন্ত এলাকা। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে সহকারী কাজি হুমায়ুন কবিরকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাল্যবিয়ে দিয়ে আসছিলেন। আদালতে তিনি সেটি স্বীকারও করেছেন। পরে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)

দণ্ডপ্রাপ্ত হুমায়ন কবির উপজেলার ছাতারী গ্রামের কায়েম উদ্দিনের ছেলে। রোববার বিকেলে উপজেলার উৎসব পার্ক থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করে বলেন, বাঘা উপজেলার এটি একেবারেই প্রত্যন্ত এলাকা। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে সহকারী কাজি হুমায়ুন কবিরকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাল্যবিয়ে দিয়ে আসছিলেন। আদালতে তিনি সেটি স্বীকারও করেছেন। পরে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই দণ্ড বাল্যবিয়ে রোধে যথেষ্ট নয় জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, তিনি ছয় মাস ধরে বাঘা উপজেলায় কর্মরত। এই সময়কালে শতাধিক বাল্যবিয়ে রোধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মূলত অসচেতনতা থেকে বাল্যবিয়ে দেয় তাদের পরিবার। প্রশাসন বাল্যবিয়ে রোধ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন পণ্ড করছেন তারা। সচেতনতার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে বন্ধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি বলেও মত দেন তিনি।

জানা যায়, এর আগে শনিবার (২ জানুয়ারি) বাল্যবিয়ে করতে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটকা পড়েন ছেলে শাহরিয়ার আলম সবুজের (১৭) নামের এক যুবক। তিনি উপজেলার শিমলা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

একই উপজেলার কাজিপাড়া এলাকার সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া এক কিশোরীর সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। টের পেয়ে বিয়েবাড়িতে অভিযান চালিয়ে আয়োজন পণ্ড করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানে আলম। এ সময় আদালত বসিয়ে বরকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। কনের মাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানাসহ মুচলেকা নেন।

রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার ইলিয়াস হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায়ই বাল্যবিয়ের খবর আসছে। আমরা আইন মেনে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে কাজিদের নির্দেশ দিয়েছি। তারা নির্দেশনা মেনেই কাজ করছেন। আর যারা আইন অমান্য করছেন, তারা শাস্তির মুখে পড়ছেন।

এনএ

Link copied