থমকে গেছে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী মিঠুর জীবন

Dhaka Post Desk

মাহাবুর আলম সোহাগ

১০ জুন ২০২১, ০৭:১২ পিএম


থমকে গেছে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী মিঠুর জীবন

প্রথম রাউন্ডের কেমোথেরাপি দেয়া শেষ হয়েছে আব্দুল্লাহ শেরদিল মিঠুর। এ রাউন্ডে মোট ৭টি কেমো দিতে হয়েছে তাকে। দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হবে ১২ জুন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে কেমো দিচ্ছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী এ শিক্ষার্থী Acute lymphoblastic leukemia (ALL) নামে এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। ২০১৭ সালের মে মাসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি। তখন থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের কো-অর্ডিনেটর চিফ কনসালটেন্ট ডাক্তার আবু সালেহ’র কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন মিঠু।

মিঠুর বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদলা ইউনিয়নের পাইকগাছা গ্রামে। যশোরে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। চিকিৎসার কারণে বর্তমানে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ রাজধানীতে এক আত্মীয়র বাড়িতে থাকছেন তিনি। মিঠুর বড় মেয়ের বয়স ৭ বছর। আর ছেলের বয়স সাড়ে তিন বছর। বাবার এমন অসুখে চিন্তিত তার ছোট্ট মেয়েটিও। এক সময় হাসিখুশিতে ভরা ছিল তাদের জীবন। কিন্তু ৪ বছর হলো পরিবারের কারও মুখে এখন আর সহজে হাসি ফুটে না। সবাই কেমন যেন এক চিন্তায় মগ্ন থাকে। এটাই অবশ্য হওয়ার কথা। কারণ পরিবারের একজনের এখন অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। 

আব্দুল্লাহ শেরদিল মিঠু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। থাকতেন এফ রহমান হলে। বন্ধুদের কাছে তিনি মিনা কার্টুনের মিঠু হিসেবে পরিচিত। সেই মিঠুর জীবন এখন থমকে গেছে। সবার প্রিয় মিঠু এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। 

বন্ধুর এমন খবরে একত্রিত হয়েছেন বাকি বন্ধুরা। শুরু করেছেন অর্থ সংগ্রহ। এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টাকা বন্ধুরাসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন বলে ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন মিঠু।

তিনি বলেন, ১২ জুন থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডের কেমোথেরাপি দেয়া শুরু হবে। জানি না এ রাউন্ডে কতগুলো কেমোথেরাপি দিতে হবে? তবে ডাক্তার জানিয়েছেন বনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। এজন্য খরচ হবে সবমিলে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এভারকেয়ার হাসপাতালেই বনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্ভব বলে জানালেন।

মিঠু বলেন, চিকিৎসা চালাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকার ব্যবস্থা করতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। ৫০ টাকা লাখ টাকা কীভাবে জোগাড় করব বুঝতে পারছি না। ডাক্তার বলেছেন, দ্রুত বনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে। না করতে পারলে অবস্থার আরও অবনতি হবে। তিনি বলেন, বন্ধুরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমার জন্য। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

মিঠুর বন্ধু আরিফুজ্জামান তুহিন তার ফেসবুকে লিখেছেন, নব্বই দশকের শেষে যেসব মানুষ গ্রাম ও মফস্বল থেকে এসে এই তুমুল ইট পাথরের শহরে ভালোবাসার রঙ নিয়ে হাহাকার করত মিঠু ছিল তাদের একজন।

খুলনা থেকে আসা মিঠু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। থাকত এফ রহমান হলে। জানতাম ওদের মাছের ঘের আছে। কিন্তু আসলে খুলনা-সাতক্ষীরা বা বাগেরহাট এলাকায় মাছের ঘের থাকা বড় কিছু না। বৃষ্টি হলে আমরা দল বেঁধে ভিজতাম। মিঠুও ভিজত। সন্ধ্যায় বান্ধবীদের হলের সামনে আড্ডা মারতাম দল বেঁধে। এভাবে মিঠু আমাদের খুব কাছের বন্ধু হয়ে গেলে। মিঠু বাঁধনের কর্মী ছিল। রক্ত দেয়া ও জোগাড় করা দুটোই করত।

আমার খুব কষ্টের দিন, মন খারাপের দিন ওরা আমাকে আগলে রেখেছিল। খুব মন খারাপ হলে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকার হলের সামনে রাতের পর পর রাত দাঁড়িয়ে থাকতাম, মিঠুও থাকত। আহারে আমার বন্ধু।

আমার মতই কালো ছিল মিঠু। কিন্তু কি মিষ্টি। চোখ দুটি দারুণ সুন্দর। কিন্তু কি এক অদ্ভুত কারণে ও রোদ চশমা পরতে ভালোবাসত। হয়তো সুন্দর যা কিছু তা আড়াল রাখাই ভালো। ওর মাথার চুল ঘন কালো কোঁকড়া। এরপর আমাদের বিপ্লব, বৃষ্টিভেজার দিন একদিন ফুরাল। মিঠু একটা বেসরকারি ফার্মে চাকরি করতে চলে গেল। আমি থেকে গেলাম ঢাকায়।

বহুদিন পর মিঠুর সঙ্গে অনেক্ষণ কথা বললাম। জানালেন, কেমোথেরাপি দিতে হবে। অনেক টাকার ব্যাপার। সিদ্ধান্ত হয়েছিল গোটা পরিবারে যত ঘের আছে আগামী তিন চার বছর কেউ লিজের টাকা (ওদের ভাষায় হাড়ি) নেবে না। সব মিঠুকে দেবে। তাতে হয়তো ২০ লাখ টাকা হতো। হয়তো এতে অনেকটা এগিয়ে যেত ওর চিকিৎসা। কিন্তু এবার ইয়াস ঝড়ে সব ঘের ভেসে গেছে। ঘের ভাড়া দেয়া যাবে না। মিঠুর টাকা পাবার সেই সম্ভাবনাও নষ্ট হলো। সেই সঙ্গে সৃষ্টি হলো ওর চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা।

তিনি লিখেছেন, আমি জানি না মিঠুর জন্য কেউ এগিয়ে আসবে কীনা? কারণ গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি, ড্যাশিং বুদ্ধিজীবী এসবের কোনো গুণই নেই মিঠুর। ও গড়পড়তা সাধারণ মানুষ। আমাদের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে অতি সাধারণ একজন। যে তার বন্ধুর অসুখে, মন খারাপ করে থাকে। নিশ্চয় সমাজের হৃদয়বান মানুষগুলো মিঠুর জন্য এগিয়ে আসবেন। তাকে বাঁচাবেন।

মিঠুর সঙ্গে কথা বলা যাবে 01717047784 নম্বরে। একই নম্বরে তাকে নগদ, বিকাশ ও রকেট এর মাধ্যমে সাহায্য পাঠানো যাবে। এছাড়াও সহযোগিতা করা যাবে তার ব্যাংক হিসাব নম্বর। Md. Abdullah Sherdil, A/c 1031030066483, Dutch Bangla Bank Banani Branch, Dhaka।

এমএএস

Link copied