নারায়ণগঞ্জে কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন

‘৭ মাইল রাস্তা কি মাথায় চইড়া যামু’

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

২২ জুন ২০২১, ০৮:৩৭ পিএম


‘৭ মাইল রাস্তা কি মাথায় চইড়া যামু’

নারায়ণগঞ্জে লকডাউনে উল্টে রাখা হয় রিকশা

‘হাইট্টা ২ মাইল আইছি পানি ভাইঙ্গা, এখন ৭ মাইল রাস্তা কি আপনের মাথায় চইড়া যামু?’ পুলিশ সদস্যকে পোশাকশ্রমিকের এমন প্রশ্নের পর উত্তর আসল, ‘আমরা কী করব, সরকারকে বলেন’। ‘সরকারই তো গার্মেন্টস খোলা রাখছে, এই ৭ দিন না গেলে কি সরকার আমার বেতন দেবে?’ এমন পাল্টা প্রশ্নের অবশ্য কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২২ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় বৃষ্টিপাতের মধ্যেই এমন কথোপকথন চলছিল সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী ইপিজেডের পোশাকশ্রমিক শাহেদা ও এক পুলিশ সদেস্যর মধ্যে। নগরীরর চাষাড়া পুলিশ বক্সের সামনে তখন শাহেদাসহ তার এক সহকর্মীকে রিকশা থেকে নামিয়ে সেই রিকশাটি উল্টে রেখেছিল পুলিশ।

এখানে রিকশা উল্টে রাখা হয়েছিল প্রায় ১৫ থেকে ২০টি। বেলা একটু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল ‘মৌমিতা’ নামের এক পরিবহনের কয়েকটি বাস চলে যাচ্ছে চাষাড়া হয়ে লিংক রোডে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ সদস্য কিংবা ট্রাফিকের কর্মকর্তারা সেই বাসগুলোকে যেন ‘অদৃশ্য’ মনে করলেন।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের সংখ্যা দেখে মনেই হলো না যে, নতুন করে জনসাধারণের চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে শহরের এই চিত্রকেও হার মানাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা।

লকডাউনের প্রথম দিনে মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড়

সেখানে তখন রীতিমতো যানজটে পুরো এলাকা স্থবির। যদিও দুপুরের পর শহরের চিত্র কিছুটা হলেও ভিন্ন ছিল। চাষাড়া এলাকায় হঠাৎ করেই পুলিশ প্রশাসনের কঠোরতায় যান ও সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকাংশেই ছিল কম।

জনসাধারণের চলাচলসহ সার্বিক কার্যাবলির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঘরের বাইরে ছুটেছেন শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের কর্মজীবী মানুষ। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেক পোস্টে যানবাহন আটকে দেওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে তাদের।

এছাড়া সকাল থেকে ভারী বর্ষণ আর রাস্তার হাঁটু ছুঁই ছুঁই পানির কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তারা। তবে নগরীর প্রায় সব মার্কেট, বিপণিবিতান ছিল বন্ধ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর নগরীর অংশে বন্দর সেন্ট্রাল ঘাটে সকাল থেকেই নৌকা ও ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বন্দর উপজেলা থেকে হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ নদী পারাপার হয়েছেন। তবে দুপুরের আগে কয়েক ঘণ্টা নৌকা চলাচল বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর তা স্বাভাবিক হয়।

বন্দর সেন্ট্রাল ঘাটের পাশাপাশি ৫ নং ঘাট, বরফকল ঘাট, টানবাজার ঘাট, নবীগঞ্জ ঘাটসহ কয়েকটি খেয়া পারাপারের ঘাটও ছিল উন্মুক্ত। এদিকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস দেখা না গেলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও প্রাইভেট কারের আধিক্য ছিল।

এদিকে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই ১৫ দিন ধরে পানিবন্দি সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। শুধু ওই ওয়ার্ডই নয়, ডিএনডির পুরো এলাকাই এখন অতিবৃষ্টির কারণে পানির তলে ডুবে আছে। এসব পানিবন্দি মানুষ লকডাউনে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ  ও পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম বলেন, বিধিনিষেধের পুরোটা সময় জেলায় ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জেলায় মোট ৩০ পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকার পাশের ৭ জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে রাস্তায় মানুষও চলাচল করতে পারবে না। শুধু জরুরি সেবা ও মালবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে বলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। ২২ জুন (মঙ্গলবার) থেকে আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

রাজু আহমেদ/এমএসআর

Link copied