বিজ্ঞাপন

প্রণোদনা মিললে বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য

লাভের আশায় বাগেরহাটে আবারও আখ চাষে জোয়ার

লাভের আশায় বাগেরহাটে আবারও আখ চাষে জোয়ার

ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভের আশায় বাগেরহাটের কৃষকেরা আবারও আখ চাষে ঝুঁকছেন। দুর্যোগ, সার-ওষুধের দাম বৃদ্ধি এবং প্রণোদনার অভাব সব বাধা সত্ত্বেও এ বছর আখের ভালো ফলন ও দাম কৃষকদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। বাজারে আখের বেচাকেনায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক সরগরম পরিবেশ। চাষিদের দাবি, সরকার সামান্য সহযোগিতা দিলে বাগেরহাটে আখ চাষ আরও বাড়বে এবং স্থানীয় বাজারও হবে স্বনির্ভর।

ফুলতলা গ্রামের আলী আকবর শেখ দশ বছর ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করছেন। গত বছর তিনি প্রথমবার আখ চাষ করেন। কিন্তু শুরুতেই ঝড়-বৃষ্টিতে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে ৬০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয় তাকে। এরপরও হাল ছাড়েননি এই তরুণ চাষি। ধার-দেনা করে এ বছর তিনি ১০ কাঠা জমিতে আবার আখ লাগান। এবার বাম্পার ফলন পেয়ে ৭০ হাজার টাকারও বেশি লাভ করেছেন তিনি।

আলী আকবর বলেন, গত বছর দুর্যোগে সবাই লস খাইছি। এ বছর ফলন ভালো হইছে, দামও ভালো পাইছি। কিন্তু আগের লসের ঋণ শোধ করব কিভাবে? কৃষি অফিস থেকেও তো কোনো সাহায্য পাই না। সরকার এই দিকে একটু নজর দিক।

গত বৃহস্পতিবার কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে হাটের দিন ভোর থেকেই দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্যান, ট্রলি, পিকআপ ও ট্রাকভর্তি আখ নিয়ে কৃষকেরা ভিড় জমান। দুপুরের আগেই বাজার আখে ঠাসা হয়ে ওঠে। বাজার সমিতির হিসাবে, হাটের দুই দিন বৃহস্পতিবার ও রোববারে বাজারে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার আখ বিক্রি হয়। প্রতি ১০০ আখ আকার ও মান অনুযায়ী ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই এলাকার আখ চাষি ফিরোজ আহমেদ জানান, আখ চাষে ব্যয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, আখে সার লাগে ফসফেট, টিএসপি, পটাশ। বছরজুড়ে ৫-৬ বার ওষুধ দিতে হয়। এগুলোর দাম প্রতিদিন বাড়তেছে। তারপরও এ বছর ফলন ভালো। বাজারে আখের চাহিদাও বেশি।

বাজারে আসা পাইকারি ক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, এখানকার আখের মান খুব ভালো। লম্বা এবং মোটা সব দিক থেকেই সেরা। তাই বরিশাল থেকে আমরা এখানেই আসি আখ কিনতে। খাজনা কম, নিরাপত্তা ভালো। অন্য বারের তুলনায় এবার দাম বেশি, তবে মান ভালো।

খুচরা বিক্রেতা রতন মল্লিক বলেন, বাধাল বাজারে আখ বিক্রি করলে দাম ঠিকঠাক পাওয়া যায়। ক্রেতা বেশি, পাইকার বেশি বেচাকেনাও ভালো।

বাধাল বাজারের ইজারাদার খান শহিদুজ্জামান মিল্টন বলেন, খাজনা কম, নিরাপত্তা ভালো তাই পাইকাররা স্বচ্ছন্দে কেনাবেচা করতে পারে। এজন্য এ বাজারে আখের লেনদেন দিন দিন বাড়ছে। এ বাজার থেকে প্রতিদিন ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, যশোরসহ নানা জেলায় আখ যায়। প্রতি হাটে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার আখ বিক্রি হয়।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বাগেরহাটে প্রায় ৭৫০ একর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন আখ।

এ বিষয়ে বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ধান, সরিষা, সূর্যমুখী চাষিদের সরকার প্রণোদনা দেয়, প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু আখ চাষিদের জন্য এ ধরনের কোনো প্রণোদনা নেই। আখ থেকে গুড়, চিনি উৎপাদন হয়। প্রতিবছর বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। আমরা যদি চাষিদের প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করি, তাহলে আখের আবাদ আরও বৃদ্ধি করা যেতে পারে। আমরা আগামীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সুপারিশ করব যাতে আখ চাষিদের প্রণোদনা দেওয়া হয়। সরকার সহযোগিতা করলে চাষিরা লসের চিন্তা ছাড়াই আখ চাষ করতে পারবেন।

শেখ আবু তালেব/এআরবি

বিজ্ঞাপন