সন্দেহভাজন ফয়সালের বাড়ি বাউফলে, এলাকায় থাকেন না পরিবারের কেউ

রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট এলাকায় প্রকাশ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন যুবক ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের (দাউদ খান) বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল করিম মাসুদের স্থায়ী ঠিকানা বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড, কেশবপুর কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। তার বাবার নাম হুমায়ুন কবির। তিনি বর্তমানে ঢাকার আদাবরে বসবাস করছেন।
সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ রাজধানীর আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এর আগে গত মাসে আদাবরে একটি স্কুলে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ফয়সালের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তাদের পূর্বের জমিতে নতুন একটি ঘরের কাজ চলমান। তবে সে ঘর তাদের নয়। তাদের সব জমিজমা পূর্বেই বিক্রি করে তারা ঢাকায় চলে গেছেন। যারা জমি কিনেছেন, তারা সেখানে ঘর তুলছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, এখানকার সব জমিজমা বিক্রি করে বহু আগেই তারা ঢাকায় চলে গেছেন। তার বাবা পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই ঢাকায় থাকেন। ফয়সালকে আমরা কখনোই দেখিনি। বহু আগ থেকেই তারা এখানে আসেন না।
২নং ওয়ার্ড কেশবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য জাহিদ হোসেন (বোনা খাঁন) বলেন, ফয়সালের পরিবার প্রায় ৩০–৪০ বছর যাবৎ গ্রামে আসে না। তার বাবা হুমায়ুন কবির ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করেন এবং তারা ঢাকাতেই থাকেন। ফয়সালের জন্মও ঢাকায়। আমরা কখনো তাকে গ্রামে দেখিনি। তার বাবা যতটুকু জমি ভাগে পেয়েছিলেন, তাও বিক্রি করে গেছেন। গ্রামে সেলিম হাওলাদার নামে তার এক চাচা থাকেন।
বিজ্ঞাপন
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, আমরা খবর পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাউফলসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের পরিবারের কেউ বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন না। তারা অনেক আগেই সব সম্পত্তি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে গেছেন। এরপর সম্ভাব্য যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। এখানে তার উপস্থিতি পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরকে