হেযবুত তওহীদের প্রচারণা ঘিরে সংঘর্ষ, দুই ছাত্রনেতা আহত

ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দুই নেতাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরিদপুর শহরের চর কমলাপুর জোড়া সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী আহত ওই দুই ছাত্রনেতাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত দুই ছাত্রনেতা হলেন সোহেল রানা ও আরিয়ান ইসলাম কাইয়ুম। সোহেল রানা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুব উইং জাতীয় যুব শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক। এর আগে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর আরিয়ান ইসলাম ওই কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চর কমলাপুর এলাকায় হেযবুত তওহীদ ফরিদপুর জেলা শাখার আয়োজনে সংগঠনের ইমাম মোহাম্মদ হোসাইন সেলিমের বক্তব্য মাইকে প্রচার করা হচ্ছিল। প্রচারের সময় ঘটনাস্থলে কিছু ব্যক্তি তাদের প্রচারে বাধা দিলে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কথা-কাটাকাটিতে পেরে না ওঠায় এক পর্যায়ে বাধাদানকারীরা আহত জাতীয় যুব শক্তি ও বৈষম্যবিরোধী নেতাকে মোবাইল ফোনে ডেকে ঘটনাস্থলে এনে পুনরায় হেযবুত তওহীদ সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে লিপ্ত হয় এবং তাদের প্রচারে বাধা দেয়। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে সোহেল রানা ও আরিয়ান ইসলাম আহত হন।
হেযবুত তওহীদের ফরিদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, তারা পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের ইমামের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা করা হলে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। শহরের চর কমলাপুর এলাকায় তাদের অফিস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এনসিপি তাদের অফিসে হামলা করতে পারে।
ফরিদপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন বলেন, ওই দুই ছাত্রনেতার ওপর হামলা করেছে হেযবুত তওহীদ। এটি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। তারা মাইক দিয়ে তাদের মতাদর্শ প্রচার করছিল। তাদের বাধা দেন সোহেল ও আরিয়ান। তখন হেযবুত তওহীদ সদস্যরা তাদের মারধর করলে তারা দুজন আহত হন। বর্তমানে ওই দুই ছাত্রনেতা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর সংগঠনের গণমাধ্যম যোগাযোগ সম্পাদক শারমিন সুলতানা ঢাকা পোস্ট অফিসে ফোন করে কাজী জেবা তাহসিনের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, হেযবুত তওহীদ কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। তাদের সংগঠনের কেউ কারও ওপর হামলা করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। তিনি বলেন, ওই দলের সদস্যরা ফিরে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
জহির হোসেন/এআরবি