শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নাম ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি এখন আর শুধু বাংলাদেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন, তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার সাহসী ও আপসহীন ভূমিকা এ জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, পরিষ্কার, সৎ ও জনগণের কল্যাণভিত্তিক রাজনীতির—সে পথেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটিতে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি লঞ্চঘাট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, হাদির প্রত্যাশা ছিল—এই দেশের রাজনীতি হবে দূষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক। আমরাও চাই দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারার প্রত্যাবর্তন হোক। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, তারা যেন জুলাই বিপ্লবের চেতনা থেকে শিক্ষা নেয় এবং জনগণের হয়ে, দেশের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে। অন্যথায় এই শহীদদের আত্মা আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু লঞ্চঘাটটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে নলছিটির সাবেক লঞ্চঘাটটির নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদি লঞ্চঘাট’ নামকরণ করা হয়েছে। এটি তার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানের আগে নৌপরিবহন উপদেষ্টা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ছোট বোন মাসুমা হাদি ও ভগ্নিপতি আমির হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল করিম, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বরিশাল বিআইডব্লিউটির পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হাবিব, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এর আগে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অধীনে লঞ্চঘাটটির সংস্কার ও রংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে নৌপরিবহন উপদেষ্টার সফর বাতিল হওয়ায় সেদিন ঘাটটির উদ্বোধন সম্ভব হয়নি।
এদিকে নলছিটির কৃতী সন্তান শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামে স্থানীয় (সাবেক নলছিটি লঞ্চঘাট) লঞ্চঘাটটির নামকরণে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি নলছিটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ন্যায়বোধ, প্রতিবাদী চেতনা ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও উদ্বুদ্ধ হবে।
ওসমান হাদির শাহাদাতের পর জন্মভূমিতে তার নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণকে নলছিটির মানুষ দেখছেন প্রতিবাদী রাজনীতির প্রতি সম্মান ও ইতিহাসের স্মারক হিসেবে।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন জিহাদী বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নলছিটির কৃতী সন্তান। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে আজীবন কাজ করেছেন। তাকে দেশবাসী চিরদিন স্মরণ করবে।
শহরের ব্যবসায়ী ও ভলান্টিয়ার্স অব নলছিটির আহ্বায়ক মো. শহাদাত আলম ফকির বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামে লঞ্চঘাটের নামকরণে এলাকাবাসী অত্যন্ত খুশি। এ সিদ্ধান্তের জন্য আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।
উল্লেখ্য, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকার খাসমহল এলাকার মৃত শরীফ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন। পরে তিনি ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী বক্তব্যে ছিলেন সরব।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবরস্থানের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
মো. শাহীন আলম/এএমকে