জামায়াত প্রার্থীর একমাত্র আয়ের উৎস আইন পরামর্শ, বার্ষিক আয় ৪ লাখ

রাজবাড়ী-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জেলা আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম। তার নামে কোনো কৃষিজমি ও গাড়ি নেই। তার রয়েছে ৫ কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ওয়াল করা ঘর এবং ২ কক্ষবিশিষ্ট টিনের একটি চৌচালা ঘর। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
হলফনামায় অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম তার পেশা হিসেবে আইনজীবী এবং স্ত্রীকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখানো হয়েছে এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত তার বয়স ৬৬ বছর। তার নামে আদালতে দুটি মামলা থাকলেও ওই মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে তিনি খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম আইন পরামর্শক হিসেবে তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, কৃষিখাত, ব্যবসা, শেয়ার/বন্ড/সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে তার কোনো আয় নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৪ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক রাজবাড়ী শাখায় তার ব্যাংক জমা রয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ২৮৫ টাকা। স্ত্রীর নামে কোনো ব্যাংক জমা নেই। নিজ নামে বা স্ত্রীর নামে কোনো কোম্পানির শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত নেই। জামায়াত প্রার্থী নূরুল ইসলামের কোনো গাড়ি বা যানবাহন নেই। স্ত্রীর নামে স্বর্ণ রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার এবং মেয়ের স্বর্ণ রয়েছে ৩০ হাজার টাকার। হলফনামায় তার ইলেকট্রনিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৫টি সিলিং ফ্যান (১০ হাজার টাকা), ১টি ফ্রিজ (২০ হাজার টাকা) এবং আসবাবপত্র (৭০ হাজার টাকা)। তার অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৭৫ টাকা। বর্তমানে এর আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৯ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে কোনো কৃষিজমি নেই। অকৃষিজমির মধ্যে যৌথ মালিকানায় রয়েছে ৭ শতাংশ জমি, যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা। যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অংশ হিসেবে রয়েছে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি, যার মূল্য ২৫ হাজার টাকা। তার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ৫ কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ওয়াল করা ঘর এবং ২ কক্ষবিশিষ্ট একটি চৌচালা ঘর, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ টাকা। যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অংশ হিসেবে একটি ঘরের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানাধীন সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য হলফনামায় দেখানো হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এছাড়াও যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অংশ হিসেবে স্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলামের নামে কোনো ঋণ বা দায়দেনা নেই। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। আয়কর বিবরণীতে তার মোট সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২১ লাখ ৫৬ হাজার ২৮৫ টাকা। এর বিপরীতে তিনি ৩ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এআরবি