যশোরে বিএনপি নেতাকে হত্যা, সীমান্তজুড়ে বিজিবির তৎপরতা

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যাতে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত থেকেই সীমান্তজুড়ে বিজিবি তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বেনাপোল আইসিপি, আমড়াখালী, সাদীপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা, শিকারপুর, শালকোনা, কাশিপুর, মাসিলা, আন্দুলিয়া ও পাঁচপিসতলা এলাকাসহ সীমান্ত-সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাত থেকেই এসব এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা রাতে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়। নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সন্ধ্যার পর তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিজের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাড়ির অদূরে শংকরপুর ইসহাক সড়কে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুজন ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রেজওয়ান বাপ্পী/এআরবি