৯৫ লাখ টাকার সম্পদের মালিক রফিকুল ইসলাম খান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৯৫ লাখ টাকার সম্পদের মালিক। তার হাতে আছে নগদ ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৫৯ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম খানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এ। রাজনীতি ও ব্যবসা তার বর্তমান পরিচয়। তার নামে ৯৩টি মামলা ছিল। সবগুলোতেই তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি বাড়িসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে বছরে ভাড়া পান ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যবসা থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ রয়েছে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৮১৫ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ২৬৪ টাকা। তার কাছে ২ তোলা স্বর্ণ রয়েছে- যার মূল্য ২০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক পণ্যের সম্ভাব্য মূল্য ৮০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের সম্ভাব্য মূল্যও ৮০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন এসব অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯ টাকা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে আনুমানিক ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯ টাকা হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি এখনো পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে বণ্টন না হলেও অকৃষি জমির বিস্তারিত হিসাব হলফনামায় দেওয়া আছে। ২.৮ শতাংশ জমির অর্জনকালীন মূল্য ৫০ হাজার টাকা, ৪.৭৮ শতাংশ জমির মূল্য ২৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং ১ কাঠা জমির মূল্য ৯ লাখ ২ হাজার ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমির অর্জনকালীন মোট মূল্য ৩৬ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫০ টাকা ধরা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের ( বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দবির উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে আবদুল লতিফ মির্জা, ২০০৮ ও ২০২৪ সালে শফিকুল ইসলাম শফিক এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রয়াত এইচটি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদে পৌঁছান। এছাড়া ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল হামিদ তালুকদার, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এম আকবর আলী এবং ১৯৯৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শামছুল আলম নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নাজমুল হাসান/আরএআর