মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম। শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষসহ প্রাণিকুল। চলতি জানুয়ারি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ জেলা জুড়ে বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।
এ অবস্থায় পৌষের শেষে এসে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে উত্তরের এ জনপদ। সেই সঙ্গে উত্তরের হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় জেলাটিতে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার একতা পাড়ার দিনমজুর নজরুল (৬০) বলেন, এই ঠান্ডা আর কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না। তারপরও কাজের খোঁজে বের হয়েছি। কাজকাম খুব কম, কোনো কাজ পাই কি না জানি না। হাত-পা খালি অবশ হয়ে আসে।
ধরলার পাড় এলাকার বাসিন্দা সালেহা বেগম (৬০) বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। এখনো কেউ একটা কম্বল দেয়নি। আমাদের মতো লোকদের কেউ দেখে না। কীভাবে যে এই ঠান্ডায় থাকি।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হওয়ায় জেলা জুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এবং উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসে এ অঞ্চলের মানুষ চরমভাবে কাবু হয়ে পড়েছে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এআরবি