প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে আটকের প্রতিবাদে দুদক কার্যালয় ঘেরাও শিক্ষকদের

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে আটকের প্রতিবাদে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একইসাথে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সেখানে অবস্থান নেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে শতাধিক শিক্ষক যশোর দুদক কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে ওই কর্মকর্তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে দেয়। পরবর্তীতে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে নাটক সাজানো হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে মুক্তি না দিলে ৮ জানুয়ারি থেকে কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার দেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা বলছেন, দুদকের পক্ষ থেকে যেভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। আশরাফুল আলম একজন সৎ অফিসার। কোনো ঘুষ লেনদেন তিনি করেন না। বরং অফিসের অন্য স্টাফদের অনিয়ম না করতে সতর্ক করেন। আর যে শিক্ষক তাকে ফাঁসিয়েছেন তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তার চরিত্র ভালো না। অনেকবার শোকজের শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। এছাড়া, তার একজন আত্মীয় জেলা দুদকের স্টাফ। তাকে দিয়েই ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অনতিবিলম্বে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমের মুক্তি দাবি করেন।
যশোর সদরের দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল জব্বার জানিয়েছেন, আশরাফুল আলমকে ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁসানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই যুক্ত না এবং জড়িত থাকতে পারেন না। তাকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মুক্তি না দিলে ৮ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, দুদক জানায়, যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ফাঁদ পাতা হয়।
অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান, তার প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর নামে আশরাফুল আলম দীর্ঘ তিনমাস ধরে তাকে নানা অজুহাতে ঘোরাতে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর আবারও ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পেনশনের অর্থছাড় হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি, খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজসে বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় দুদক অভিযান চালিয়ে আশরাফুল আলমকে তার কক্ষ থেকে হাতেনাতে আটক করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষকরা দুদক কার্যালয় ঘিরে রাখেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
রেজওয়ান বাপ্পী/এমটিআই