বরিশালে বিএনপির ছয় আসনের প্রার্থীর কার কত সম্পদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজেদের আয়, সম্পদ ও দায়-দেনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্পদের দিক থেকে বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে কয়েকটি আসনে প্রার্থীদের তুলনায় তাদের স্ত্রীদের নামে বেশি সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।
বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬০ টাকা। এর মধ্যে কোম্পানি থেকে সম্মানি বাবদ আয় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯ টাকা এবং পুত্রের আয় ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২২৫ টাকা।
অস্থাবর সম্পদ হিসেবে স্বপনের নিজের রয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬০ টাকা। স্ত্রীর ২ কোটি ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং ছেলের ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৮ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নিজের ও পৈত্রিক সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।
বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া)
এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সারফুদ্দিন আহমেদ সান্টু হলফনামায় নিজের কোনো আয়ের তথ্য দেখাননি। তবে তার স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।
সান্টুর নিজের অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৯৩ লাখ ৮ হাজার ৭৭৩ টাকা এবং স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৫ টাকা।
স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার স্ত্রীর নামে ৫৬ শতাংশ জমি, একটি বাড়ি, পাঁচটি অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি পেট্রোলপাম্পসহ মোট ৮ কোটি ৪২ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৪ টাকা মূল্যের সম্পত্তির তথ্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ছেলের নামেও তিনটি অ্যাপার্টমেন্টসহ ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ)
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের মোট সম্পদের আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, তার ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৪৬৫ টাকা। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৭০ লাখ ৫৬ হাজার ৬১৭ টাকা। এর মধ্যে বাড়িভাড়া ও আইন পেশা থেকে আয়ের অংশ বেশি। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার মালিকানায় ফ্ল্যাট, জমি ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ)
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ব্যাংক জমা, শেয়ার ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট প্রায় ৮৩ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তবে নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
বরিশাল-৫ (সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন)
সদর ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৯ টাকা।
তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৯ হাজার ৫৬২ টাকা। ঢাকায় ও বরিশালে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানার তথ্য রয়েছে। তবে স্ত্রী ও সন্তানের সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)
এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫৮ টাকা। তার নিজের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৫ টাকা।
স্থাবর সম্পদ হিসেবে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকান, ভবন ও জমিসহ মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ১ হাজার ৬২০ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন তিনি। তার স্ত্রীর নামেও ৩২ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির তথ্য রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, বরিশালের ছয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের চিত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। নির্বাচনী প্রচারে এসব তথ্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই দেখার অপেক্ষা সাধারণ ভোটারদের ।
আরিফ হোসেন/এমটিআই