কুড়িগ্রামে শীতের দাপটে বিপর্যস্ত নিম্ন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী

কুড়িগ্রামে গত কয়েক দিনে তীব্র শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন ও দরিদ্র আয়ের মানুষরা। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হিমশীতল বাতাসে কাঁপুনি বাড়ছে। সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিক মিয়া বলেন, শীতের কারণে আমি সকালবেলা রিকশা নিয়ে বের হতে পারিনি। আয় কমে যাওয়ায় সংসারে অভাব লেগেই আছে। বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আছিয়া বেগম বলেন, ঠান্ডার কারণে কাজ করা যায় না, বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হওয়াও কঠিন। খুব সমস্যার মধ্যে আছি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়া বলেন, আমি বিলে ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। শীতের কারণে কয়েক দিন ধরে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছি না। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়া শুরু হয়েছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জেলার নয়টি উপজেলায় আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, শনিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এআরবি