ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়

ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তার নির্বাচনী এলাকা বাবুগঞ্জের চাঁদপাশায় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত নির্বাচন আচরণবিধি বিষায়ক সভা শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একাধিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বারবার নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন একটি দলের পক্ষপাতিত্ব করছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রচারণা শুরুর আগেই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে— এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা অস্ত্র মহড়ার পরিকল্পনা করছে বলেও জানতে পেরেছি। বিষয়গুলো আমরা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে আর কোনো ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু এবং ঈদের আনন্দের মতো। কিন্তু ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং আগেই ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা থাকলে সে নির্বাচনকে ভালো নির্বাচন বলা যায় না।
একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত এবং যারা ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে, তাদের তালিকা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে দুই-তিন মাসের জন্য এসব ব্যক্তিকে আটক করা গেলে কেন্দ্র দখল ও সংঘর্ষ অনেকাংশে কমে আসবে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে এবং ভোটার ও প্রার্থীরা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।
নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা আমাদের জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছি। কোন বিষয় প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে এবং কোনটি যাবে না, এ বিষয়ে এলাকায় এলাকায় স্পষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছি।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের নামে ও বেনামে বিভিন্ন ব্যানার ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছে, যা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
ফুয়াদ বলেন, এই অনিয়মগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- এমন আস্থা আমরা পাই না। তাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং রাষ্ট্রের আইন সর্বস্তরে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়েজন।
এ সময় বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরে প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সৌরভ সরদার, এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরএআর