একই পরিবারের ৩ জন নিহতের ঘটনায় ময়মনসিংহে শোকের ছায়া

রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিনজন। তাদের দাফনের জন্য পাশাপাশি খনন হচ্ছে কবর। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দড়িপাচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মর্মান্তিক আহাজারি দৃশ্য।
এর আগে, এদিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে মুহূর্তেই পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পঞ্চম তলায় আটকা পড়ে এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন-ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দড়িপাচাশি গ্রামের প্রয়াত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার বড় ছেলে রাহাব উদ্দিন (১৭) এবং ভাতিজি মোছা. রোদেলা আক্তার (১৪)।
নিহতদের পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন হারিছ উদ্দিন। সেখানে তিনি ফলের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে ভালোই চলছিল হারিছ উদ্দিনের। এর মধ্যে রোদেলা আক্তার উত্তরার একটি মহিলা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো।
তবে ঘটনার আগে রাতে (বৃহস্পতিবার) ছোট ছেলে নবাবকে সঙ্গে নিয়ে হারিছের স্ত্রী রিনা আক্তার মিরপুরে তার বাবার বাসায় বেড়াতে যান। এতে বেঁচে যায় ছোট ছেলে নবাব ও হারিছের স্ত্রী।
নিহত হারিছ উদ্দিনের মা সাহারা খাতুন বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে গো, আল্লাহ তুমি এইডা কী করলা।’ এভাবেই আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
নিহত হারিছ উদ্দিনের চাচা ইসমাইল ও দরিপাচাশি বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মো. আব্দুল আজিজ বাদশা বলেন, ঢাকার উত্তরায় আগুনের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন। তাদের সবাইকে একসঙ্গে পাশাপাশি কবরস্থানে দাফন করা হবে। দোয়া করি মহান আল্লাহ পাক যেন তাদের জান্নাত নসিব করেন।
নিহত হারিছ উদ্দিন, ছেলে রাহাব উদ্দিন ও ভাতিজি রোদেলাকে দাফনের জন্য দরিপাচাশি বায়তুন নুর জামে মসজিদের পাশে পাশাপাশি খনন করা হয়েছে কবর। রাতেই নিহতদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।
মো. আমান উল্লাহ আকন্দ/এএমকে