নওগাঁ জেলা কমিটি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণপদত্যাগ

স্বেচ্ছাচারিতা ও আন্দোলনের মূল চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটির ১০ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে তারা লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে একজন সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনের একজন আহত যোদ্ধাও রয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় অনুমোদনে সম্প্রতি গঠিত ২০৬ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি শুরু থেকেই বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যক্তিকেন্দ্রিক, অস্বচ্ছ ও আন্দোলনের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা ও কমিটির সদস্য সালমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা রাজপথে লাঠি-গুলি মোকাবিলা করেছি। অথচ আজ দেখছি সংগ্রামের ফসল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। আহত যোদ্ধারা অবহেলিত, অথচ এমন অনেকে কমিটিতে আছেন যারা কখনো সামনে দাঁড়ায়নি।’
আরেক সংগঠক সিহাব হোসেনের অভিযোগ, কমিটিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (এনসিপি) পদবঞ্চিত নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিটি আশা করলেও তা না হওয়ায় আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন পদত্যাগকারী বলেন, অরাজনৈতিক কমিটিতে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি জুলাইয়ের আদর্শের পরিপন্থী।
তবে গণপদত্যাগের এই ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন জেলা আহ্বায়ক আরমান হোসেন। তিনি বলেন, ‘গণপদত্যাগপত্র পাওয়ার পর সংগঠক সিহাব ছাড়া আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের ধারণা, সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কেউ এই পত্র পাঠিয়েছে। কমিটিতে এনসিপির কেউ নেই; সদস্য সচিব রাফি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেই এখানে যুক্ত হয়েছেন।’
সাংগঠনিক দুর্বলতার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি জানান, একটি পক্ষ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরমান হোসেনকে আহ্বায়ক ও রাফি রেজওয়ানকে সদস্য সচিব করে ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট নওগাঁ জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
মনিরুল ইসলাম শামীম/বিআরইউ