‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দীর্ঘদিনের পঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে কোটা সংস্কার আন্দোলন রুপ নিয়েছিল গণঅভ্যুত্থানে। অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যই ছিল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে গণভোটের হ্যাঁ জয়ের মধ্য দিয়ে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা অডিটরিয়ামে গণভোটের প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় এসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট—দুটোর জন্যই নির্বাচন কমিশন ও সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার যারা রাজনৈতিক দল এবং ভোটাররা—তারাও প্রস্তুত। ভোটাররা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অনেক বছর পর ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর রাজনীতিবিদরাও প্রস্তুত, কারণ তারাও বহু বছর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। সকল মেজর স্টেকহোল্ডার যখন প্রস্তুত, তখন অবশ্যই আমি বলবো নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়ে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। সেই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান দাবি ছিল পরিবর্তন। কোটা সংস্কার দিয়ে শুরু হলেও, যে ধরনের রাষ্ট্রীয় অত্যাচার ও বর্বরতার মুখোমুখি হয়েছিল ছাত্র-জনতা, তখন থেকেই পরিবর্তনের একটি জোরালো দাবি ওঠে। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারকে গতানুগতিক নিয়মতান্ত্রিকভাবে শুধু প্রতিদিনের প্রশাসন চালিয়ে একটি নির্বাচন করে দিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে আনা হয়নি। আমরা শুরু থেকেই তিনটি বড় এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছি। একটি হচ্ছে সংস্কার, দ্বিতীয়টি বিচার, তৃতীয়টি নির্বাচন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে, যে যেই বিষয়ে অভিজ্ঞ—তাদের দিয়েই সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে মতামত আনা হয়েছে। ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশন ভোট ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই কমিশনগুলোর সুপারিশমালাকে কেন্দ্র করেই জুলাই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সনদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে, সপ্তাহ ও মাসব্যাপী, সকল বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে গণভোটের প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে যে সুপারিশগুলো ছিল, সেগুলোই ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সুপারিশ। তার ভিত্তিতে বড় দাগের যেসব সুপারিশ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা গণভোটে সেগুলোকে প্রশ্ন আকারে উপস্থাপন করেছি। যদি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে জুলাই যে পরিবর্তনের স্বার্থে হয়েছিল, পরিবর্তনের লক্ষ্যে হয়েছিল, এবং জুলাই–পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের আশা জেগেছিল—তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
পরে তিনি রংপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিতে সকলকে সুচিন্তিত মত দেওয়ার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
সভায় রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, রংপুর বিভাগীয় তথ্য অফিসের পরিচালক ড. মো. মোফাকখারুল ইকবাল।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএএস