জামায়াতের আমির হামজার বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রদল নেতার মামলা

কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে ফৌজদারি মামলার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলার এ আবেদন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান চৌধুরী শিহাব।
আদালতের বিচারক দেলোয়ার হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একাধিক ভিডিওতে আমির হামজা ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রূপমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা স্পষ্টতই মানহানিকর।’
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘এসব বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। এর ফলে তাদের পরিবারবর্গ, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জাতীয়তাবাদী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক অপমান ও মানসিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।’
বাদি দাবি, গত ১৬ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল এলাকায় অবস্থানকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও দেখেন ও শোনেন। আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব থেকে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার আবেদনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫০০/৫০১/৫০৬ অনুযায়ী অভিযোগ আমলে গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে সমন অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
বাদি সোলায়মান চৌধুরী শিহাব বলেন, “এটি আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আদালতে মামলার আবেদন করেছি।”
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে বলে বাদীপক্ষ প্রত্যাশা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজা বলেন, “মামলার আবেদনের বিষয়টি জেনেছি। আমি আজ বিকেলে আদালতেই ছিলাম। যতটুকু জানি এই মামলার কোন ভিত্তি নাই। এখনও কোন নোটিশ পায়নি।”
রবিউল আলম ইভান/এসএমডব্লিউ