কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা বলেছেন, আমি আয়না ঘরে ও ফাঁসির কন্ডেম ছেলে ছিলাম অনেক বছর। আমাকে মেরে না ফেললে আমার বিরুদ্ধে ৬৪ কেন ৬৪ হাজার মামলা দিয়েও আমাকে নির্বাচনের পথ থেকে সরানো যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ফুটবল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনি সমাবেশে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা বলেন, আমার নিজের জন্ম এই থানাতে। আমি আপনাদের জন্য অনেক কিছু করতে চাই। আজ আপনাদের সে কথাই জানাবো। আমি আজকে নির্বাচনি প্রচারণায় ছিলাম আপনাদের এই ঝাউদিয়া। বহু মানুষ বহু কথা আমাদের কানে তুলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা বলছেন আপনার নামে বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন বন্ধুরা ১৩ সাল, ১৫ সাল, ১৭ সাল, ১৯ সাল, ২৩ সালের বক্তব্যগুলো কাটিং করে ভুলভাল মানুষকে বুঝিয়ে তারা একটি রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য মানুষের ভেতরে ভিতি ও ষড়যন্ত্র ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য মামলা বাণিজ্য করছে। ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা। আমার এই থানা বিক্রি করলে কি এত টাকা হবে?
তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে ঝাটা মিছিল হয়েছে মহিলাদের নিয়ে। যে মহিলার নেতৃত্বে এই ঝাটা মিছিল হয়েছিল বটতৈল ক্যানালপাড়ার লাইলা বেগম তিনি মাদক ব্যবসায়ী। তিনি বহুবার মাদকের কারণে জেলে গেছেন। তাদের জনপ্রিয়তা এত তলানিতে যে মাদক ব্যবসায়ীদের দিয়ে মিছিল করানো লেগেছে। এটা এখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আলোচনার বিষয় হয়ে গেছে।
ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের বিভিন্ন মসজিদের কিছু ইমামদের বলতে শুনেছি “এরা আল্লাহর আইন চায় না। এজন্য একটা ইসলামিক দল তাদের থেকে বেরিয়ে গেছে, নাউজুবিল্লাহ”। আমাদের ব্যানারে দেখেন লেখা আছে, ‘আল্লাহর আইন চাই’। আল্লাহর আইন যারা চাই তারা ইসলাম মানে না তারা বলেন কীভাবে?
আমির হামজা বলেন, আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন চাই। যদি আপনাদের ভোট নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি। মানুষের নিরাপত্তা দল-মত নির্বিশেষের সবার। আমি নিজেও যেমন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বহু মানুষ এখন নিরাপদে নেই। মরহুম এরশাদ একটা কথা বলেছিলেন, ঘরে থাকলে খুন হয় আর বাইরে গেলে গুম হয়। এই দৃশ্য আর আমরা আগামীতে বাংলাদেশে দেখতে চাই না। আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছিলাম, ফ্যাসিস্টদের সময় হয় খুন হয়ে গেছে, নয় গুম হয়ে গেছে, আর না হয় কোথায় গেছে কেউ বলতে পারে না। সামনে যদি আর এদিন ফিরিয়ে আনতে না চান তাহলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েন।
নারী অধিকার ও বেকার সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, নারী অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য দেশ ও বিদেশের অনেক জায়গায় কথা ওঠে। আমার বাড়িতে দুইজন বিদেশি প্রতিনিধি এসেছিলেন। তারা বারবার নারীর অধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল। আমি আমার কুষ্টিয়ার জনগণকে জানাতে চাই। যদি আপনাদের রায় নিয়ে আমরা যেতে পারি তাহলে সবচেয়ে বেশি নিরাপদে থাকবে আমাদের মেয়েরা ও নারীরা। তাদের সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এলাকায়। বহু জায়গা তৈরি করা আছে সেগুলো শুধু প্রতিষ্ঠা করব। মোহিনী মিল আছে, টেক্সটাইল মিল আছে। বেকার সমস্যা বড় সমস্যা আমাদের এই যুবকদের। যতটুকু বাস্তবতা দেখেছি এদেশে বেকার থাকবে না। কর্মমুখী ও বাস্তবতার নিরিখে যদি তৈরি করা যায় তাহলে বাইরের অনেক দেশ আমাদের দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করার জন্য মুখিয়ে আছে।
এখানে একটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টায় আছি। আদ দ্বীন হাসপাতাল কুষ্টিয়া সদরে আছে। এখান থেকে সদরে যেতে অনেক সময় লাগে। আপনারা জানেন, আকিজ গ্রুপের আমি খতিব ছিলাম। আকিজ গ্রুপের মালিকের সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সাতটি ইউনিয়নে আমাদের এই ইবি থানা। যদি এখানে মেয়েদের চিকিৎসার জন্য আদদ্বীন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা যায় কুষ্টিয়া শহরে মেয়েলি বিষয় নিয়ে আর যেতে হবে না।
আসরের নামাজের সময় হওয়ায় নির্বাচনি সমাবেশের মাঠে নামাজের আয়োজন করা হয়। এ সময় মুফতি আমির হামজা নিজেই সমাবেশে আগত মুসল্লিদের নিয়ে নামাজে ইমামতি করেন।
রবিউল আলম ইভান/এএমকে
