রাসিকের বর্জ্যে মরছে রাবির গাছ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পূর্ব পাশের কৃষি প্রজেক্ট এলাকার মাঠের মাঝ দিয়ে যাওয়া বুধপাড়া-বধ্যভূমি সড়কের পাশে নিয়মিত বর্জ্য ফেলছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। পরে সেই বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলায় সড়কের পাশের গাছপালা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আগুনে পুড়ে ৫ থেকে ৬টি গাছ মারা গেছে, যেগুলো রাবি প্রশাসন বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে।
সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বলছেন, এই ওয়ার্ডে নির্দিষ্টভাবে বর্জ্য ফেলার কোনো জায়গা নেই। ফলে ওয়ার্ডের বিভিন্ন ডোবা বা নিচু জায়গায় বর্জ্য ফেলা হয়। একইভাবে রাবির এই জায়গাতেও বর্জ্য ফেলা হয়। এখানে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ ভ্যান বর্জ্য ফেলা হয় খোলা আকাশের নীচে। ফলে এলাকায় পরিবেশের মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই খোলা জায়গাটি সিটি কর্পোরেশনের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত নয়। তবুও প্রতিদিনই সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বর্জ্যের স্তুপে গাছের শিকড় ঢাকা পড়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে ছয় থেকে সাতটি গাছ মরে গেছে। মৃত গাছগুলো কেটে বিক্রিও করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, এই পথ দিয়ে বুধপাড়া, রাবির সুইপার কলোনি, মোহনপুরসহ আশেপাশে এলাকার শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াত করে। বর্জ্যের দুর্গন্ধের কারণে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে বাতাসে দুর্গন্ধের মাত্রা এতো বেশি থাকে যে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা নাক চেপে চলাচল করেন।
রাবি শিক্ষার্থী সবুজ ইসলাম বলেন, এই জায়গাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের একদম শেষ মাথায়। এ সড়ক দিয়ে রাবির শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা যাতায়াত করে। এটা সিটি কর্পোরেশনের কোন জায়গা নয়। এটা রাবির জায়গা। আমরা চাই এখানে সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য না ফেলে রাবির পরিবেশ নষ্ট না করুক।

রাবির কয়েকজন কর্মচারী বসবাস করেন সুইপার কলোনিতে। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সহজ রাস্তায় এটি। সকাল-বিকেল সব সময় এই সড়কের লোকজন চলাচল করে। কয়েক বছর থেকে এখানে বর্জ্য ফেলতে দেখা যাচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধ তো আছেই। আবার মাঝে মধ্যে এগুলো আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়। সেটের দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সবুজ পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তারা বলছেন, রাজশাহী শহরকে ‘পরিচ্ছন্ন নগরী’ হিসেবে গড়ে তুলতে গিয়ে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা ও গবেষণার স্থানে বর্জ্য ফেলা হয়, তাহলে তা শুধু প্রকৃতির ক্ষতি নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও হুমকি হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মনিরুল ইসলাম হাসিব বলেন, আমাদের কাজলার ডাম্পিং নষ্ট হওয়ায় এখানে ময়লাগুলো ফেলাতে হচ্ছে। এটা নিয়ে আমি সিটি করপোরেশনে কথা বলেছি। তবে সেখান থেকে কোনো সমাধান করা হচ্ছে না। তাই এখানেই ফেলতে হচ্ছে ময়লাগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি জায়গা ময়লা ফেলার সাবস্টেশনের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে প্রোপার মেনটেন না হওয়া বিভিন্ন সময়ে ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে না। আমরা এটা নিয়ে কথা বলেছি বেশ কয়েকবার তবে সিটি মেয়র না থাকায় সঠিকভাবে কিছু হচ্ছে না। আশা করি দ্রুত আমরা এটা নিয়ে তাদের সাথে কথা বলব।
শাহিনুল আশিক/আরকে