আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজাকার : বিএনপি প্রার্থী

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার বলেছেন, বিএনপি একটা বড় দল এবং আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা আর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন রাজাকার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড হাজীরহাট বন্দর এলাকায় নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন ও ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা একজন রাজাকারের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া হয়? এটা কোনো আইনে আছে? এই রাজাকাররা ১৯৭১ সালে ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। আমাদের দেশের মা-বোনদেরকে ইজ্জত হরণের জন্য তারা নিয়া যাইত সেখানে, মনোরঞ্জনের জন্য এবং ৩০ লাখ লোককে শহীদ করছে এরা। সুতরাং এদেরকে ভোট দেওয়ার কিছু আছে?’ এ সময় সামনে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমস্বরে জবাব দেন—‘না।’
এরপর তিনি বলেন, ‘যদি না থাকে তাহলে আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। ভোট চাই আমার জন্য না, ভোট চাই আপনাদের জন্য, আপনারা শান্তিতে থাকবেন। থাকতে চান না? আপনারা ভালো থাকবেন, আপনারা সুস্থ থাকবেন। ইনশাল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান যদি দেশের প্রেসিডেন্ট হয়, তাহলে আপনারা শান্তিতে থাকবেন, একেবারে শান্তিতে থাকবেন।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে শহিদুল আলম বলেন, ‘আমি যদি এমপি হই, তাইলে কিছু লোকের বাউফল ছাড়া লাগবে সঙ্গে সঙ্গে। আমি এমপি হওয়ার পরের দিন দেখবেন কিছু মানুষ নাই বাউফল থানায়। কারণ আমি যাদেরকে অপছন্দ করি সে সমস্ত মানুষ থাকবে না বাউফল থানায়।’
নিজের বয়সের ভার ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি একজন বয়স্ক মানুষ, আমার এখন যুদ্ধ করা লাগতাছে একজন নব্য রাজাকারের সঙ্গে। যারা আমার মায়ের ইজ্জত মরছে, যারা আমার বোনের ইজ্জত মারছে।’
রাজনীতিতে নিজের ত্যাগ ও রাজনৈতিক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলেও আমি বিদ্রোহ করেছি, আমি ১৯৭৩ সালে ৭ বছর পালাইয়া ছিলাম। কিন্তু আমি এখনো বলছি, আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু না, যারা এ দেশে ভালো মানুষ সে যে দলই করুক, তারা আমাদের বন্ধু, আমাদের ভাই, আমরা তাদেরকে গ্রহণ করবো। আর যারা শত্রু, যারা খারাপ করবে, তারা দেশ ছাড়বে—এইটাই ফাইনাল কথা।
এ সময় পটুয়াখালী জেলা ও বাউফল উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে শহিদুল আলম তালুকদারের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এএমকে