অতীতের নির্বাচনে সাংবাদিকদের চোখ অন্ধ ছিল বলে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত

অতীতের নির্বাচনে সাংবাদিকদের চোখ অন্ধ ছিল বলে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অনেকগুলো চোখ কাজ করে, সংবাদ মাধ্যম তার মধ্যে একটি। আমাদের অতীতের নির্বাচনে এই চোখগুলো অন্ধ ছিল দেখে আমরা একটু ভীত-সন্ত্রস্ত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রের অনিয়ম রক্ষা করতে সর্বপ্রথম চোখ হলো ভোটারের নিজের চোখ। ভোটারই ছিল না সেখানে চোখ থাকবে কোথায়। তারপরবর্তী চোখ হচ্ছে দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টরা। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক আছেন তারা। সুতরাং এখানে অনেকগুলো চোখ কাজ করে তাই অনিয়ম করার সুযোগ নাই।
ইসি বলেন, সাধারণ ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট একই সময়ে গণনা করা হবে। তবে পোস্টাল ব্যালট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগবে। প্রতিটি ব্যালটে ১১৯টি প্রতীক থাকায় প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে দেওয়া ভোট গণনার সময় সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের সামনে প্রতীক দেখিয়ে নিশ্চিত করা হবে, ভোটার কোথায় ভোট দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই আগ্রহকে সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কোনো দুষ্টচক্র যাতে প্রতিপক্ষের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়টি প্রশাসনকে কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটাররা চাইলে নিজেদের ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন—এতে কোনো বাধা নেই। তবে নির্বাচনের সময় কেউ যেন কাউকে ভোট দিতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভোটের সততা নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভোট প্রদান করেন, তাহলে সেই ভোট বাতিল হয়ে যাবে।
পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসী ও দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালট আলাদা প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে। প্রবাস থেকে পাঠানো ভোটগুলো ডাক বিভাগ সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেবে। আর দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালট স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
মতবিনিময় সভায় নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী নোয়াখালী ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল চৌধুরী মোহাম্মদ আলী হায়দার, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) টিএম মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শান্তনু কুমার দাশ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছা, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জেলা সমন্বয়ক কমান্ডার মাসুম উল হক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের হাতিয়া কন্টিজেন্টের প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট মো. এম এ হোসেন, বিজিবি-৪ ব্যাটেলিনের নায়েক মো. বেলাল হোসেন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলামসহ বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।
হাসিব আল আমিন/এএমকে