ধানের শীষে ভোট চাইলেন আ.লীগ নেতা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুর রহিম হাওলাদার নিজেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলাম। যারা বিএনপি করত, তাদের সঙ্গে আমার কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। মামলা-হামলা করিনি। এখন আওয়ামী লীগ নেই। এখন আমি বিএনপির প্রার্থী এবিএম মোশারফ ভাইকে ভালোবাসি। আমি তারেক জিয়াকে ভালোবাসি। ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেব। আমরা যারা আওয়ামী লীগ আছি, সবাই সম্মিলিতভাবে, ঐক্যবদ্ধভাবে দলমত নির্বিশেষে ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দেব, আপনারাও দিন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে আওয়ামী লীগের ভেতরে ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই মনে করছেন বিএনপির উদার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ এখন ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বিএনপি বর্তমানে দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সকলকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমির মানুষ বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, আব্দুর রহিম হাওলাদার ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পৌর আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাফর মুসুল্লী বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা রাজনৈতিক দলকে প্রাধান্য না দিয়ে একই এলাকার মানুষ হিসেবে মিলেমিশে বসবাস করছি। বিএনপির উদার রাজনৈতিক চর্চার কারণেই তিনি আজ ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। উন্নয়নের স্বার্থে কুয়াকাটায় সব রাজনৈতিক দল মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চায়। মানুষ এখন শান্তি চায়।
এসএম আলমাস/আরএআর