শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা আগে থেকে চেয়ারে বসে থাকলেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেন। একপর্যায়ে সেখানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, উগ্রবাদী জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তাদের হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সাহা জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া, আরও ১০ থেকে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরে কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দেন।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মো. নাইমুর রহমান তালুকদার/এএমকে