নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, এই সময়ে যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে সকল সীমান্তবর্তী বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল মনিটরিং, বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস স্থাপনসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় শাতাধিক স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতে অবস্থানকারী একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে আমরা নানা বিষয়ে কথা বলি, পতাকা বৈঠক, সমন্বিত টহল পরিচালনা করি। এ বিষয়টি নিয়ে বিএসএফসহ সকল পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাচনকালীন সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের দেশে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে তারা সচেষ্ট আছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন- এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিজিবি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রেরণামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে অধিক সংখ্যক ভোটার নিশ্চিন্তে ভোট প্রদানে উৎসাহিত বোধ করেন।
কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৭টি জেলায় ৬২টি উপজেলাসহ ১টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭টি সংসদীয় আসনে মোট ৬৫টি বেইজ ক্যাম্পে ১৪৬ প্লাটুন (তিন প্লাটুন সংরক্ষিতসহ) মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে এবং সীমান্তে সর্বমোট ৭৬টি বিওপি সমূহে প্রত্যেকটিতে ১০ জন করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ হিসেবে সর্বমোট ৪ হাজারের অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আধুনিক ২টি এপিসিসহ ১ (এক) প্লাটুন বিজিবি সদস্য কুয়িক রিঅ্যাকশন ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও রাজাশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ এলাকায় কে-৯ ইউনিটের ৭টি ডগসহ এক প্লাটুন কে-৯ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে ১৫টির অধিক স্পিডবোট এবং ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফটের মাধ্যমে ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় থেকে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দিবা রাত্রে রিভারাইন পেট্রোলে নিয়োজিত থাকবে।
তিনি বলেন, রাজশাহী সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি ইউনিট ড্রোনের মাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখবে। নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত বেজ স্টেশন ও রিপিটার স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে ডিএমআর সেটের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদর দপ্তরে র্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেস্পন্স ফোর্স সর্বদা প্রস্তুত থাকবে, যারা মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম। সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অধীনস্থ ইউনিটসমূহের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম তদারকি করবে।
এ সময় বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শাহিনুল আশিক/আরএআর