ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন : তারেক রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সঙ্গে সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সে জন্যেই আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব- ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে। একই সাথে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দিবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সকলেই ভোট দেবেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।
কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এ সময় তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ খাল খনন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, একটি দল আমাদের সঙ্গে পাঁচ বছর সরকারে ছিল। তাদের মন্ত্রী ছিল। তখন আমরা ভালো হলেও এখন আমরা তাদের কাছে নাকি খারাপ। আমরা প্রশ্ন হচ্ছে- আমরা খারাপ হলে তারা কেন পাঁচ বছর সঙ্গে ছিল?
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এর আগে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা রংপুর বিভাগের উন্নয়নে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। একই সাথে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ রংপুর বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দাবি জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় যোগ দিতে রংপুরের উদ্দেশ্যে গাড়িবহরে রওয়ানা দেন তারেক রহমান। পথিমধ্যে তিনি কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য দেন। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি শহীদ আবু সাঈদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন তিনি।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর