শাপলা কলিতে ভোট দিতে চাওয়ায় হামলা, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

রংপুরের পীরগাছায় ‘শাপলা কলি’-তে ভোট দেওয়ার কথা জানানোয় ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মজনু মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তার মজনু মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাকে ভোটের পছন্দ পরিবর্তনে চাপ দিতে হামলাটি চালায়। এ ঘটনায় আহত ইদ্রিস আলী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মজনু মিয়া ওই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ও অন্নদানগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগজীবন এলাকার মৃত মজিব উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলী এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের শাপলা কলির সমর্থক। ঘটনার দিন বিএনপির কর্মী মজিবর রহমানের ছেলে মজনু মিয়া ও মুকুল মিয়া, আব্দুল বারেকের ছেলে ফিরোজ মিয়া ওরফে ফেরাজ এবং মৃত শুকুর মাহমুদের ছেলে মজিবর রহমান ইদ্রিস আলীর বাড়ির উঠানে গিয়ে ভোট বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা ইদ্রিস আলীর কাছে জানতে চান, তিনি কাকে ভোট দেবেন। ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি আখতার ভাইয়ের শাপলা কলিতে ভোট দেবেন। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, এলাকায় থাকতে চাইলে বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। অন্যথায় তাকে দেখে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর অভিযুক্তরা ইদ্রিস আলীকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। ইদ্রিস আলী বলেন, আমি শুধু আমার ভোটের অধিকার প্রয়োগের কথা বলেছি। এ জন্য আমাকে মারধর করা হয়েছে এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখনো আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের আগে এ ধরনের হামলা ও ভয়ভীতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা বলেন, ভোটের অধিকার নিয়ে কথা বলায় কেউ যদি হামলার শিকার হয়, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়ে। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, মামলা গ্রহণ করে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরকে