মাদরাসা পুড়ে ছাই, প্রাণে বাঁচলেন ছাত্র-শিক্ষকসহ ৩৭ জন

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি হাফিজিয়া মাদরাসা এবং এতিমখানা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য পার্শ্ববর্তী মসজিদে অবস্থান করায় মাদরাসার ৩৭ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নোহাটা দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে টিনশেড মাদরাসাটিতে। এতে শিক্ষার্থীদের থাকার কক্ষ, রান্নাঘর, পাঠদানের উপকরণ, বইপত্র, বিছানা, পোশাক, টাকা-পয়সা, অধ্যক্ষের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ সব মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায়।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত মোট ৩৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি সেখানে দুইজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই পাশের একটি মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করছিলেন। মাদরাসা থেকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখেন স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা তাফসিরুল ইসলাম হাবিবী বলেন, আমরা জুম্মার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাই হঠাৎ আমাদের মাদরাসায় আগুনের ধরার খবর পাই। ছুটে এসে দেখি পুরো মাদরাসা দাউ দাউ করে জ্বলছে। কিছুই আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে আল্লাহর রহমতে ভেতরে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মাদরাসার ভেতরে থাকা সমস্ত মালামাল পড়ে ছাই হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামছুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পোশাক- আশাক, থাকার ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ও পড়াশোনা পুনরায় চালু করতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন পোশাক-আশাক, বইপত্র, বেডিংসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তাছিন জামান/আরকে