নীলফামারীর ৪টি আসনে জামায়াত-বিএনপির লড়াই, একটিতে শক্ত অবস্থানে জাপা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির এক সময়ে দূর্গ হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতে এবার দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সেগুলো নিজের দখলে নিতে চায়। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে দল দুটি। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে জাতীয় পার্টি ৷ যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
নীলফামারী-১ আসন (ডোমার ডিমলা)
আসনটিতে ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে জাফর ইকবাল সিদ্দিকী নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার আসনটি ধরে রেখেছিলেন। তবে এবার আসনটিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আসনটি দীর্ঘ সময় জামায়াতে ইসলামী দখলে নিতে না পারলেও এবার তারা দখলে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এটিতে এবার বিএনপির জোটের প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আব্দুর সাত্তার, জাতীয় পার্টির তছলিম উদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদীর রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি ন্যাপের জেবেল রহমান গনি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর জলিল ও জাতীয় পার্টি জেপি মখদুম আজম মাশরাফি। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৫। ভোটাররা বলছেন সৎ যোগ্য ব্যক্তিকে আসনটির উন্নয়নে সুযোগ দিতে চান।
নীলফামারী-২ আসন (সদর উপজেলা)
আসনটিতে ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর মিজানুর রহমান নির্বাচিত হয়। পরে ২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূর নির্বাচিত হয়ে দখলে রেখেছিলেন। তবে এবার জয় পেতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বিএনপি জামায়েত দুটি দল। আসনটিতে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছে দলের সাবেক চেয়ারপার্সনের বেগম খালেদা জিয়ার ভাগিনা শাহরিন ইসলাম। আসনটিতে জামায়াত ও বিএনপি দুটি দলেই রয়েছে শক্ত অবস্থানে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতীফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাছিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সরোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফ সিরজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনজাহ। এ আসনে ভোট মোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৫।
নীলফামারী-৩ আসন (জলঢাকা)
২০০৮ সালে আসনটিতে জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদের, ২০১৪ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা, ২০১৮ সালে জতীয় পার্টির রানা মোহাম্মদ সোহেল ও ২০২৪ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের লীগের সাদ্দম হোসেন পাভেল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এতে এবার আসনটিতে জয়ের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে আছে বিএনপি ও জামায়েত। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর ওবায়দুল্লাহ সালফী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির আলহাজ্ব সৈয়দ আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো আমজাদ হোসেন সরকার ও জাতীয় পার্টির মো রোহান চৌধুরী। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৬।
নীলফামারী-৪ আসন (কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর)
আসনটিতে ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আমজাদ হোসেন সরকার, ২০০৮ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এ মারুফ সাকলান, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আসনটি দখলে রেখেছিল জাতীয় পার্টি। তবে এবার আসনটি দখলের চেষ্টায় মরিয়া বিএনপি ও জামায়েত। অন্যদিকে বিএনপির দলীয় কোন্দলে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন জাতীয় পার্টি। আবার আসনটিতে ছাড় দিতে রাজি নয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। এতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মির্জা শওকত আকবর রওশন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদী মাঈনুল ইসলাম, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুন, জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুর আলম সিদ্দিক, স্বতন্ত্র জোবায়দুর রহমান হীরা, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মুনতাকিম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আব্দুর গফুর সরকার। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮১৪।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/আরকে