দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে রূপরেখা তুলে ধরবেন তারেক রহমান

দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় একটি সুস্পষ্ট ও সময়োপযোগী উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরবেন। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালু, খুলনায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নতুন ইকোনমিক জোন নির্মাণসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নানা পরিকল্পনা তার বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে খুলনা বিএনপি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল।
প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনায় আগমন করবেন। সকাল থেকে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে বেলা ১১টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুলমাঠে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।
রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসমাগম নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ জনসভায় অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। খুলনায় গ্যাস সংযোগ না থাকায় নতুন শিল্প স্থাপন ব্যাহত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ছে।
প্রেসব্রিফিং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, খুলনাঞ্চললের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তারেক রহমান ঘোষিত উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং এই অঞ্চলের মানুষ নতুন আশার আলো দেখতে পাবে।
তিনি আরও বলেন, খুলনায় ইকোনমিক জোন নির্মাণ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে দক্ষিণাঞ্চলের অবদান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রভাতী স্কুল মাঠের জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
প্রেসব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল হাসান বাপ্পী, শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সুত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। তার আগমনের খবরে খুলনার সর্বস্তরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। খুলনা মহানগর, জেলা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই জনসমাবেশকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়াসহ ৬টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এসেছে ঢাকা থেকে। মাঠের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও প্রচারণা কার্যক্রম ঘিরে দলীয় কার্যালয়ে চলছে একের পর এক প্রস্তুতি সভা। ইতোমধ্যে নগরী ও জেলায় প্রচার মাইকিং শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের খুলনা আগমন কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয় এটি আমাদের জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য এই সফর হবে নতুন প্রেরণার উৎস। ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে নিজের শহরে দেখতে পাওয়া আমাদের কাছে আবেগ, গর্ব ও সম্মানের।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই সফর বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই জনসমাবেশ হবে মাইলফলক।
উল্লেখ্য, এই সমাবেশ থেকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ১৪টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।
মোহাম্মদ মিলন/এএমকে