১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির জানাজা ও দাফন হবে : হাসনাত আবদুল্লাহ

১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর মৃত জাতীয় পার্টির জানাজা ও দাফন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ভারতের রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই জাতীয় পার্টিকে ১২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক দাফন সম্পন্ন করতে হবে। তারা অলরেডি মৃত। ১২ তারিখ ভোটের মধ্য দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক জানাজা হবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুরের কাউনিয়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রংপুর-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আখতার হোসেনের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি ওপেনে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু গোপনে তারা ‘না’ এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ওপেন-গোপনের খেলা বন্ধ করে জনতার কাতারে নেমে এসে গণভোটে মুখে যা বলেছেন, সেই হ্যাঁ-কে জিতিয়ে আগামী সংসদে ক্ষমতা কাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক বলেন, আমরা দেখেছি তারেক জিয়া, নাহিদ ইসলাম, ডাক্তার শফিকুর রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পরিতাপের বিষয় হলো, ভারতের রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যারা ভোটের আগের দিন মুড়ি নিয়ে আসবে, শাড়ি নিয়ে আসবে। অ্যাডভান্স অর্থ নিয়ে আসবে তাদেরকে ১২ তারিখ প্রত্যাখান করতে হবে। ১২ তারিখ যদি আপনারা কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ সংগ্রহ করেন, যদি ভোটের দিন তাদের সিএনজির জন্য অপেক্ষা করেন। এই একদিনের ভুলেই আপনাদের আগামী ৫ বছর ভোগাবে। আমরা অর্থ নিয়ে আসতে পারব না, আমরা লুঙ্গি শাড়ি নিয়ে আসতে পারব না। আমরা বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগ নিয়ে আসতে পারব না। আপনি আমার জন্য ১০ দিন খাটেন, আগামী পাঁচ বছর আপনার জন্য গোলাম হয়ে থাকব।
জনসভায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, যাদের কারণে দেশের মানুষেরা অত্যাচারের শিকার, বঞ্চিত হয়েছে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্টরা দিল্লির গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে দেশের ক্ষমতায় আহরণের চেষ্টা করছে। তাদেরকে দেশের জনগণ লালকার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সবাইকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ভোটাধিকার হরণের জন্য মাস্তানি, হোন্ডা নিয়ে গুন্ডামি করতে চাইলে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় আসলে শাপলা চত্বর গণহত্যা, বিডিআর গণহত্যা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সব শহীদ ও সর্বশেষ শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের হত্যার বিচার করা হবে। দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে দুঃশাসনের শিকার হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর বাকশাল থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী শাসন ও সর্বশেষ গণতন্ত্রের নামে ৫৪ বছর আওয়ামী লিগ ও বিএনপি লুটপাটের শাসন করেছে। আমরা ১১ দলীয় জোট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকার করছি। জনগণের নির্দেশে আমরা কাজ করতে চাই।
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খানসহ এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমজে