আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. সহিদুল আলম তালুকদারকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী সিভিল জজ ও নির্বাচনী এলাকা–১১২ পটুয়াখালী–২ (বাউফল) এর নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিষয়টি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আলোচনায় আসে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ জানুয়ারি বাউফল এলাকায় প্রকাশ্যে আয়োজিত একটি দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে সহিদুল আলম তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
এছাড়া, গত ২৫ জানুয়ারি ১৩ নম্বর আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজীর হাট বাজারে অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি বাউফল উপজেলার হোসনাবাদ এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সহিদুল আলম তালুকদারের নেতা-কর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিলে হত্যা ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সহিদুল আলম তালুকদারকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে অবস্থিত সিভিল জজ আদালতে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন আকারে প্রেরণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নোটিশটি দ্রুত জারি ও কার্যকর করার জন্য বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এমজে
