বাবার পক্ষে ভোট চাইতে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটছেন শামারুহ মির্জা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জন্য বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার জীবনের শেষ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনরাত এক করে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন। ৭৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার নিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এবার প্রচারণার মঞ্চে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চিকিৎসা বিজ্ঞানী শামারুহ মির্জা।
বাবার পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য তিনি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটছেন, কাছে থেকে দেখছেন মানুষের সমস্যাগুলো।
শামারুহ মির্জা নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাট-বাজার, গ্রামীণ উঠান ও পাড়া-মহল্লায় সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। কখনো পথসভা, কখনো ঘরোয়া বৈঠকে তিনি জনগণকে বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের কথা জানান। ভোটারদের কাছে তিনি বাবার আদর্শ, নৈতিকতা ও মানুষের অধিকার নিয়ে তার অবিচল অবস্থানের গল্প তুলে ধরেন এবং তাদেরকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রচণ্ড রোদ, শীত, ধুলোবালি বা দীর্ঘ পথ কোনো কিছুই তার প্রচারণার গতিকে থামাতে পারেনি। স্থানীয়রা বলছেন, প্রবাসী পেশাজীবী হয়েও সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলার এই উদ্যোগ ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
ভোটারদের মতে, শামারুহ মির্জার উপস্থিতি বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। তারা বলেন, ফখরুল সাহেবকে বহুদিন ধরে চিনি। কিন্তু তার মেয়েকে রোদ-ধুলোয় মাঠে হেঁটে জনগণের সঙ্গে কথা বলতে দেখলে ভালো লাগছে।
শামারুহ মির্জার এই সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দৃষ্টি কেড়েছে। যদিও তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণা দেননি, তবু মাঠে নিয়মিত অংশগ্রহণ ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি এনেছে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়িয়েছে।
ভোটাররা জানান, তিনি আলমগীর স্যারের কন্যা হয়েও কখনো নিজেকে আলাদা করে দেখাননি। স্বচ্ছল, নিরাপদ ও সুন্দর জীবন ছেড়ে তিনি আজ সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়েছে। কোনো ভেদাভেদ না করে, কোনো ক্লান্তি না দেখিয়ে বাবার হয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনা করছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে। রোদ কিংবা কাদামাটির পথ কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। প্রবীণদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, নারীদের পাশে দাড়ানো, তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সবকিছুতেই তার আন্তরিকতা স্পষ্ট। ক্ষমতার অহংকার নয়, বরং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তার প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে উঠেছে।
তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি যে বিনয় ও মানবিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, তা রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। তার এই ত্যাগ, শ্রম ও নিষ্ঠা প্রমাণ করে রাজনীতি যদি সত্যিই মানুষের কল্যাণের জন্য হয়, তবে সেটি এমন দায়িত্ববোধ ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। এমন একজন সাহসী, সচেতন ও মানবিক কন্যাকে পাশে পেয়ে আমরা গর্বিত। তার উপস্থিতি শুধু বাবার নির্বাচনী প্রচারণাকে শক্তিশালী করেনি, সাধারণ মানুষের মাঝেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

আকচা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম বলেন, আজ যখন রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ, তখন শামারুহ মির্জা মাঠে নেমে প্রমাণ করছেন নেতৃত্ব মানে মানুষের পাশে থাকা। তার এই সক্রিয় উপস্থিতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন সাহস ও শক্তি সঞ্চার করেছে। কর্মীরা আবার সংগঠিত হচ্ছে, রাজপথের রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এটি নির্বাচনী প্রচারণায় একেবারে নতুন ও কার্যকর মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি আরও বলেন, শামারুহ মির্জার মধ্যে আমরা স্পষ্টভাবে আগামী দিনের নেতৃত্ব দেখতে পাই। তিনি কেবল পরিচয়ের রাজনীতি করছেন না, তিনি দায়িত্বের রাজনীতি করছেন। দলের মহাসচিব স্যারের সততা, আদর্শিক দৃঢ়তা, আপসহীন অবস্থান এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এই প্রতিটি গুণাবলি তার মধ্যেই আমরা প্রতিফলিত হতে দেখছি। আমাদের কাছে এটি পরিষ্কার শামারুহ মির্জা শুধু আজকের প্রচারণার মুখ নন, তিনি আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতীক। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই আস্থা কোনো সাজানো বক্তব্য নয়, এটি মাঠের বাস্তবতা। তিনি আমাদের পরবর্তী নেতা এ বিশ্বাস এখন আর শুধু প্রত্যাশা নয়, এটি রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় আদনান, সাধারণ সম্পাদক আসিফ সহ কয়েকজন ছাত্রনেতা বলেন, শামারুহ মির্জার মাঠভিত্তিক রাজনীতি আজ তরুণ সমাজকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। রাজনীতিকে যখন অনেকেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে মিটিং আর পোস্টারের মধ্যে, তখন তিনি সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে প্রমাণ করছেনজনগণের সঙ্গে সংযোগই আসল শক্তি। তার মির্জার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সাহসী অবস্থান ও দায়বদ্ধতা। সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তরুণদের স্বপ্ন ও সংকট বোঝা এবং সেগুলোকে রাজনৈতিক ভাষায় তুলে ধরা এগুলো একজন ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য। তার এই সক্রিয় ভূমিকা ছাত্রদলসহ তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।
তারা বলেন, তার নেতৃত্বে আমরা দলের মহাসচিব স্যারের আদর্শ, সংগ্রামী মানসিকতা ও আপসহীনতার ধারাবাহিকতা দেখতে পাই। তিনি উত্তরাধিকার নয়, যোগ্যতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন এ কারণেই তরুণ প্রজন্ম তাঁর প্রতি আস্থাশীল হচ্ছে। আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট শামারুহ মির্জা শুধু বর্তমান সময়ের একটি নাম নন, তিনি আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রস্তুত বাস্তবতা। ছাত্রসমাজ আজ তার পাশে দাড়াতে প্রস্তুত, কারণ আমরা তার মধ্যেই ভবিষ্যতের শক্ত নেতৃত্ব দেখতে পাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেন, শামারুহ মির্জাকে আমরা আর কেবল একজন সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে দেখছি না তিনি এখন আমাদের আগামী দিনের নেতৃত্বের বাস্তবতা। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক সংযোগ ইতোমধ্যেই তাকে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করেছে।

তারা বলেন, তার কথা বলার ভঙ্গি বিনয়ী হলেও রাজনৈতিক অবস্থান দৃঢ়। তিনি তৃণমূলের কথা মনোযোগসহকারে শোনেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তবতা ও সংগঠনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। এই গুণাবলিই আজকের রাজনীতিতে দুর্লভ, আর এখানেই তিনি আলাদা হয়ে উঠেছেন। কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সব স্তরেই তার গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। এটি কাকতালীয় নয়, এটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক শ্রমের ফল।
সম্প্রতি এক নির্বাচনী খোলা বৈঠকে শামারুহ মির্জা বলেন, আমি নিয়মিত রাজনীতির মাঠের মানুষ নই। একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে আমার পেশাগত জীবন দেশের বাইরে। কিন্তু একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং একজন সন্তানের দায়িত্ববোধ থেকেই আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েছি।
তিনি বলেন, আমার বাবার আদর্শ, তার রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং গণতন্ত্রের পক্ষে তার আজীবনের অবস্থানের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল উদ্দেশ্য। আমি জানি, তিনি সারাজীবন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সেই ইতিহাস, সেই ত্যাগের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরাই আমার দায়িত্ব বলে মনে করি।
শামারুহ মির্জা আরও বলেন, আমার বাবার বয়স হয়েছে। আপনাদের কথা বলতে গিয়ে, মানুষের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন। ব্যক্তিগত স্বস্তি বা ক্ষমতার লোভ নয় তিনি রাজনীতি করেছেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য। আজ আমি আপনাদের কাছে একজন সন্তানের পক্ষ থেকে, একজন নাগরিকের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাতে এসেছি আরেকবার ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। আপনাদের সমর্থনই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আরকে